ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি, এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না শিক্ষার্থী

নারায়ন চন্দ্র রায়, দিনাজপুর প্রতিনিধি::

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নাইম ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি বাবদ টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নাইম ইসলামের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা নিজ হাতে গ্রহণ করেন চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তার ফরম পূরণ করা হয়নি এবং পরীক্ষার আগে তাকে এডমিট কার্ডও দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাইম ইসলাম জানান, তিনি পাকেরহাটে অবস্থিত ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তবে তার রেজিস্ট্রেশন করা ছিল চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে। টেস্ট পরীক্ষার পর ফরম ফিলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলে গেলে তাকে চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে টাকা জমা দেন।

তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার দুই দিন আগে স্কুলে গিয়ে জানতে পারি আমার এডমিট কার্ড আসেনি। পরে জানতে পারি আমার ফরমই পূরণ করা হয়নি। এতে আমার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”

ঘটনার বিষয়ে ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক সাইদ ইসলাম বলেন, নাইম ইসলাম দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন অসুস্থতার কারণে স্কুল ছেড়ে দেয়। পরে ফরম পূরণের জন্য এলে তাকে রেজিস্ট্রেশনকৃত স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তবে এডমিট কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু বলেন, “নাইম ইসলামের টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার মনে ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবারকে ডেকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। “প্রধান শিক্ষক যদি আগে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে হয়তো সমাধানের সুযোগ ছিল। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব,” বলেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৪:৪১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি, এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৪:৪১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নাইম ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি বাবদ টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নাইম ইসলামের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা নিজ হাতে গ্রহণ করেন চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তার ফরম পূরণ করা হয়নি এবং পরীক্ষার আগে তাকে এডমিট কার্ডও দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাইম ইসলাম জানান, তিনি পাকেরহাটে অবস্থিত ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তবে তার রেজিস্ট্রেশন করা ছিল চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে। টেস্ট পরীক্ষার পর ফরম ফিলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলে গেলে তাকে চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে টাকা জমা দেন।

তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার দুই দিন আগে স্কুলে গিয়ে জানতে পারি আমার এডমিট কার্ড আসেনি। পরে জানতে পারি আমার ফরমই পূরণ করা হয়নি। এতে আমার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”

ঘটনার বিষয়ে ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক সাইদ ইসলাম বলেন, নাইম ইসলাম দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন অসুস্থতার কারণে স্কুল ছেড়ে দেয়। পরে ফরম পূরণের জন্য এলে তাকে রেজিস্ট্রেশনকৃত স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তবে এডমিট কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু বলেন, “নাইম ইসলামের টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার মনে ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবারকে ডেকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। “প্রধান শিক্ষক যদি আগে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে হয়তো সমাধানের সুযোগ ছিল। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব,” বলেন তিনি।