দিনাজপুর–ফুলবাড়ী মহাসড়কে ট্রাকচাপায় ছাত্র নিহত

দিনাজপুর সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের ভবাইনগর এলাকায় দিনাজপুর–ফুলবাড়ী মহাসড়কে ট্রাকচাপায় শাকিল বাবু (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রানীপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল বাবু দিনাজপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার প্রশিক্ষণ শেষে সাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে ভবাইনগর তেলের পাম্পের পাশে দিনাজপুর থেকে আসা একটি মালবোঝাই ট্রাক পেছন দিক থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সাইকেলসহ ট্রাকের নিচে পড়ে যান। পরে ট্রাকের পেছনের চাকা তার বুকের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ঘাতক চালক নিকটস্থ একটি তেলের পাম্পে আশ্রয় নেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কের সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। তবে জরুরি রোগীবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। তারা ট্রাকের মালিক ও চালককে ঘটনাস্থলে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
খবর পেয়ে মোহাম্মদ নূরুন্নবী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে প্রায় ২০ মিনিট আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আলোচনায় নিহতের পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সম্মতি হয়।
পরবর্তীতে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে পুনরায় মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। এ সময় পুলিশ তেলের পাম্পে লুকিয়ে থাকা ট্রাকচালক শাহীন বাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, শাকিল বাবু অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। সম্প্রতি তিনি পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টও প্রদান করেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রানীপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।






















