ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়ার দাপটে বাজার অস্থির, রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ

ইকবাল হোসাইন, কক্সবাজার প্রতিনিধি::
23

প্রখর গরমের এই সময়ে নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি ও মাছ-মাংস—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের।

বর্তমানে মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৫ টাকা। পাইজাম চাল ৬৮ টাকা এবং সরু চালের মধ্যে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবজির বাজারেও কমেনি উত্তাপ। বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। খুচরা বাজারে বেগুন কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৮০-১০০ টাকা, আর বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শিম ও শজিনা ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৬০-৮০ টাকা এবং টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে মাছ-মাংস কেনা অনেকের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। ফলে ডাল-ভাত ও সামান্য সবজি দিয়েই দিন পার করার চেষ্টা করছেন নিম্নআয়ের মানুষরা। তবে সেই ব্যবস্থাও এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার এক ভ্যানচালক কবির আহম্মদ বলেন, “বাজারে এসে বুঝতে পারছি না কী কিনব। যে টাকা আছে তা চাল-ডাল কিনতেই শেষ হয়ে যাবে। এক পদ সবজিও হয়তো কেনা সম্ভব হবে না। কয়েক মাস ধরেই দাম বাড়ছে। এখন চুলায় হাঁড়ি চাপাতেই মানসিক চাপ বেড়ে গেছে।”

এদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন সিদ্দীকি অভিযোগ করে বলেন, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সারা বছরই বিভিন্ন কৌশলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজার তদারকি ও গবেষণার অভাব থাকায় ভোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাসান-আল-মারুফ জানান, বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অসাধু উপায়ে দাম বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। যে টাকায় আগে সপ্তাহের বাজার হতো, এখন তা দিয়ে দুই বেলার খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও অসন্তোষ।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১২:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

দাম বাড়ার দাপটে বাজার অস্থির, রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ

আপডেট সময় ১২:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
23

প্রখর গরমের এই সময়ে নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি ও মাছ-মাংস—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের।

বর্তমানে মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৫ টাকা। পাইজাম চাল ৬৮ টাকা এবং সরু চালের মধ্যে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবজির বাজারেও কমেনি উত্তাপ। বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। খুচরা বাজারে বেগুন কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৮০-১০০ টাকা, আর বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শিম ও শজিনা ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৬০-৮০ টাকা এবং টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে মাছ-মাংস কেনা অনেকের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। ফলে ডাল-ভাত ও সামান্য সবজি দিয়েই দিন পার করার চেষ্টা করছেন নিম্নআয়ের মানুষরা। তবে সেই ব্যবস্থাও এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার এক ভ্যানচালক কবির আহম্মদ বলেন, “বাজারে এসে বুঝতে পারছি না কী কিনব। যে টাকা আছে তা চাল-ডাল কিনতেই শেষ হয়ে যাবে। এক পদ সবজিও হয়তো কেনা সম্ভব হবে না। কয়েক মাস ধরেই দাম বাড়ছে। এখন চুলায় হাঁড়ি চাপাতেই মানসিক চাপ বেড়ে গেছে।”

এদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন সিদ্দীকি অভিযোগ করে বলেন, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সারা বছরই বিভিন্ন কৌশলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজার তদারকি ও গবেষণার অভাব থাকায় ভোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাসান-আল-মারুফ জানান, বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অসাধু উপায়ে দাম বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। যে টাকায় আগে সপ্তাহের বাজার হতো, এখন তা দিয়ে দুই বেলার খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও অসন্তোষ।