বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি নেতার মেলা, ক্লাস শূন্য

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্কুল চলাকালীন টানা দুদিন ধরে মেলা বসানোয় শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৭৭নং বড় আজলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে মেলা বসানো হয়। তাই স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
চন্ডিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিন কাজী এই মেলার আয়োজন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় মাঠ দখল করে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা। চতুর্থ শ্রেণিতে মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়, অন্য শ্রেণিগুলোতে উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে কার্যত ক্লাস কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪১ শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু মেলার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। অনেক অভিভাবকও শিশুদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত থাকছেন।
বিদ্যালয় মাঠ দখল করে মেলা আয়োজনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস সাহা বলেন, ‘স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কোনো অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় মাঠে মেলা বসিয়েছে। চাকরির অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে আমি সরাসরি বাধা দিতে পারছি না। তবে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।’
পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলত হোসেন খান বলেন, বিদ্যালয় মাঠে জোরপূর্বক মেলা বসানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অননুমোদিত। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিন কাজী বলেন, ‘এটি মূলত এক দিনের ছোট একটি মেলা ছিল, যা এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, বিষয়টি আজকে জেনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






















