ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

চেকপোস্ট নিউজ::
12

হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে আজ (সোমবার) থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ঢাকাসহ দেশের ৭০ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে চলবে এই কর্মসূচি।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান, সোমবার প্রায় ১১ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তিন সপ্তাহের এ কর্মসূচিতে মোট টিকা পাবে এক কোটি ৭০ লাখ শিশু।

গত ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেওয়া শুরু করে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৩ হাজার। আর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে হামের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

 

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৫০৫ বার পড়া হয়েছে

সারা দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
12

হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে আজ (সোমবার) থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ঢাকাসহ দেশের ৭০ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে চলবে এই কর্মসূচি।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান, সোমবার প্রায় ১১ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তিন সপ্তাহের এ কর্মসূচিতে মোট টিকা পাবে এক কোটি ৭০ লাখ শিশু।

গত ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেওয়া শুরু করে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৩ হাজার। আর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে হামের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

 

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।