খুলনায় ৪ কোম্পানির সিন্ডিকেটে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থির

ঈদুল ফিতরের পর থেকে ৪ কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারনে অস্থির হয়ে উঠেছে খুলনায় ভোজ্য তেলের বাজার। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে এই কোম্পানি গুলো। ফলে বাজার থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে সয়াবিনের বোতল। ইরান ও আমেরিকা, ইজরায়েলর যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হয় খোলা সয়াবিনের দাম।
সিন্ডিকেট করা তেল কোম্পানি গুলো হলো – রুপচাঁদা, ফ্রেস, বসুন্ধরা, তীর। বতমানে খুলনার বড় বাজারের কয়েকটি দোকান গুরে দেখাগেছে, ১ লিটার সয়াবিন তেল ২০৫ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। একইভাবে দুই লিটারের বোতল ৪০৫ টাকা, ৩ লিটারের ৬১০ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৫৫-৯৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ঈদের আগে ১ লিটার ২০০ টাকা, ২ লিটার ৪০০ টাকা, ৩ লিটার ৫৯৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৫০ টাকায় বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। আবার কেউ কেউ এর থেকে বেশি দরে বিক্রি করছেন। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নামি দামি কোম্পানির তেল বাজারে না থাকলেও বর্তমানে তারা লোকাল আইটেম বা ননব্রান্ডের কিছু বোতলজাত ভোজ্য তেল বিক্রি করছেন।
খুলনার রড় বাজারের মা মনষা ভান্ডারের ব্যবসায়ী মৃন্ময় বনিক বলেন, ” আমি তীর কোম্পানির একমাত্র বিক্রয় প্রতিনিধি। গেল রোজার ঈদের পর থেকে কোম্পানি কোন তেল দিচ্ছে না। অগ্রিম টাকা দিয়েও তারা আটকে রেখেছে। প্রতিদিন চাহিদার ২০০ কার্টুনের অনুকুলে তারা ঈদের পর থেকে আমাকে ১০০ কার্টুন সয়াবিন তেল দিয়েছে। সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে তারা। কারন জানতে চাইলে কোম্পানির প্রতিনিধিরা কাঁচামালের সংকটের কথা জানিয়েছেন।
ব্যবসার জন্য তিনি কিছু ননব্রান্ড তেল বিক্রি করছেন। একই বাজারের ব্যবসায়ী বসুন্ধরা কোম্পানির পরিবেশক ইলিয়াস ব্রাদার্সের কর্মকর্তারা বলেন, ” ঈদের আগে থেকে কোন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের পর প্রথম ৩০০ কার্টুন মাল দিয়েছে। বোতলজাত তেল বাজারে না থাকলে দাম বেড়ে যাবে। ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহআলম মৃধা বলেন, ” ইরান, আমেরিকা ও ইযরাইলের যুদ্ধের প্রভাব তেলের বাজারে পড়েছে। যার যা আছে তা আটকে রেখে দাম বৃদ্ধির পায়তারা করছে। তাছাড়া জালানী তেলের সংকট থাকায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ সেক্টরে দাম বৃদ্ধি হলেই বেড়ে যায় তেলের দাম। বর্তমানে লুস তেল প্রতিকেজি ২০৩ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
এদিকে বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সিদ্দিক স্টোরের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের আগে একদফা তেলের দাম বেড়েছে। মুল্য আরো ৩ টাকা বাড়ানোর জন্য বাজার থেকে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে কোম্পানিগুলো। তাছাড়া তেল নিতে গেলে এখন তারা নতুন ফর্দ ধরিয়ে দিচ্ছে। ৫০ হাজার টাকার তেল নিতে চাইলে ময়দা,সুজি, সরিষার তেল নিতে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বাড়তি। খুলনায় তীর কোম্পানির নির্বাহী সেলস অফিসার তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ” দেশের বাজারে সব কোম্পানির বোতলজাত ভোজ্য তেলের সংকট আছে। সংকটের কারন জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ফিল্ডের অফিসার, আমি ফিল্ডের খবর জানি।
তিনি আরো বলেন, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৩ টাকা বাড়াতে পারে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান। কথা হয় খুলনার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক আলিমুল ইসলামের সাথে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু আয় বাড়েনি। এভাবে নিত্য পন্যের দাম বাড়তে থাকলে হয়ত এক সময় না খেয়ে মরে যেতে হবে। নিত্য পন্যের দামে ক্ষোভ ঝাড়লেন, কেয়া আক্তার। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার নামে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের কাজ কি ঘুমিয়ে থাকা, না তদারকি করা?
























