ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ্রতার দাপটে কক্সবাজারে অসহনীয় গরম: হাঁপিয়ে উঠেছে জনজীবন

ইকবাল হোসাইন, কক্সবাজার প্রতিনিধি::

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা সাধারণ তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। এতে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটক—সবাই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জনজীবনে নাভিশ্বাস শহরের বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট এবং সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

রিকশাচালক রহমত উল্লাহ জানান, “রোদ তো আছেই, তার ওপর গুমোট গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে। একটু চালালেই শরীর ভিজে যাচ্ছে, কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

পর্যটকদের অবস্থা ভরা মৌসুমে না হলেও সৈকতে অনেক পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে। তবে দুপুরের দিকে সৈকত প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সুমি ও আরিফ বলেন, “সমুদ্রের টানে আসলাম, কিন্তু আদ্রতার কারণে গরমে টিকে থাকা দায়। সাগরের লোনা বাতাসও যেন আজ তপ্ত মনে হচ্ছে।”
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জনাব তোফায়েল হোসেন তথ্যমতে, আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও আদ্রতার পরিমাণ ৮০%-৮৫% হওয়ায় মানুষের শরীরে তা ৩৯° থেকে ৪০° সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপের প্রভাব এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এই গুমোট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, “এই গরমে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণ মানুষকে প্রচুর পানি, ডাবের পানি ও স্যালাইন পানের পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের রোদে বের না হওয়াই ভালো।”

আগামী দিনের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার খুব একটা হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া মেঘমালার কারণে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রাকে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে।
তীব্র এই গরমে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৫ বার পড়া হয়েছে

আদ্রতার দাপটে কক্সবাজারে অসহনীয় গরম: হাঁপিয়ে উঠেছে জনজীবন

আপডেট সময় ০৯:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা সাধারণ তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। এতে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটক—সবাই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জনজীবনে নাভিশ্বাস শহরের বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট এবং সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

রিকশাচালক রহমত উল্লাহ জানান, “রোদ তো আছেই, তার ওপর গুমোট গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে। একটু চালালেই শরীর ভিজে যাচ্ছে, কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

পর্যটকদের অবস্থা ভরা মৌসুমে না হলেও সৈকতে অনেক পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে। তবে দুপুরের দিকে সৈকত প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সুমি ও আরিফ বলেন, “সমুদ্রের টানে আসলাম, কিন্তু আদ্রতার কারণে গরমে টিকে থাকা দায়। সাগরের লোনা বাতাসও যেন আজ তপ্ত মনে হচ্ছে।”
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জনাব তোফায়েল হোসেন তথ্যমতে, আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও আদ্রতার পরিমাণ ৮০%-৮৫% হওয়ায় মানুষের শরীরে তা ৩৯° থেকে ৪০° সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপের প্রভাব এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এই গুমোট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, “এই গরমে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণ মানুষকে প্রচুর পানি, ডাবের পানি ও স্যালাইন পানের পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের রোদে বের না হওয়াই ভালো।”

আগামী দিনের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার খুব একটা হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া মেঘমালার কারণে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রাকে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে।
তীব্র এই গরমে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।