ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কারখানা চালুতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকব: গভর্নর

চেকপোস্ট ডেস্ক::
82

বন্ধ কারখানা চালু করতে এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রুমে ঢাকার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিজনেস এডিটর, সিনিয়র সাংবাদিক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা জানান।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, কিছু কারখানা আগেই বন্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর আরো কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সেই কারখানাগুলোকে কিভাবে আবার উৎপাদনে নিয়ে আসা যায়, সেটা আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোকে আমরা সহায়তা করার কথা বলছি, যাতে তারা উৎপাদনে ফিরে এসে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায় কারখানার সম্পদ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাবে এবং ব্যাংক টাকা ফেরত পাবে না।

সভায় বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সব দিক নিয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ শোনেন গভর্নর। পাশাপাশি ডেপুটি গভর্নররা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন।

গভর্নর বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যে আস্থা দরকার, সেটা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও কাজ করছে। বড় উদ্যোক্তাদের, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন, তাদের পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, কিছু বড় উদ্যোক্তার সঙ্গে আমরা বসেছি। আরও বসব। তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

আর্থিক খাত ‘রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত’ রাখার জোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে, আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। চেষ্টা করছি, ব্যাংক খাতে যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব না আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গভর্নর বলেন, আমাদের সহকর্মীদের বারবার বলছি, কারও কথা আপনারা শুনবেন না। সেই ধরনের চাপ আমি নিজের ঘাড়ে নিতে রাজি।

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপ নিয়েও এ সময় কথা বলেন তিনি।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাচারের অর্থ ফেরত আনার বৈশ্বিক সাফল্য খুব কম। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, এসব অর্থ সাধারণ আমানতকারীদের টাকা। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা উদ্ধার করে আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ও মামলা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় দেওয়ানি মামলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৫:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
৫৪১ বার পড়া হয়েছে

বন্ধ কারখানা চালুতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকব: গভর্নর

আপডেট সময় ০৫:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
82

বন্ধ কারখানা চালু করতে এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রুমে ঢাকার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিজনেস এডিটর, সিনিয়র সাংবাদিক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা জানান।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, কিছু কারখানা আগেই বন্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর আরো কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সেই কারখানাগুলোকে কিভাবে আবার উৎপাদনে নিয়ে আসা যায়, সেটা আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোকে আমরা সহায়তা করার কথা বলছি, যাতে তারা উৎপাদনে ফিরে এসে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায় কারখানার সম্পদ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাবে এবং ব্যাংক টাকা ফেরত পাবে না।

সভায় বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সব দিক নিয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ শোনেন গভর্নর। পাশাপাশি ডেপুটি গভর্নররা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন।

গভর্নর বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যে আস্থা দরকার, সেটা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও কাজ করছে। বড় উদ্যোক্তাদের, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন, তাদের পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, কিছু বড় উদ্যোক্তার সঙ্গে আমরা বসেছি। আরও বসব। তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

আর্থিক খাত ‘রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত’ রাখার জোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে, আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। চেষ্টা করছি, ব্যাংক খাতে যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব না আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গভর্নর বলেন, আমাদের সহকর্মীদের বারবার বলছি, কারও কথা আপনারা শুনবেন না। সেই ধরনের চাপ আমি নিজের ঘাড়ে নিতে রাজি।

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপ নিয়েও এ সময় কথা বলেন তিনি।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাচারের অর্থ ফেরত আনার বৈশ্বিক সাফল্য খুব কম। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, এসব অর্থ সাধারণ আমানতকারীদের টাকা। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা উদ্ধার করে আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ও মামলা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় দেওয়ানি মামলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।