ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাখাইয়ে অধিগ্রহণ প্রস্তাবকে ঘিরে জমি ক্রয়ের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

এম এ ওয়াহেদ, লাখাই, হবিগঞ্জ::
9

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের লাগোয়া জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জমি ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হামজা মাহমুদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কলেজ সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠান। উক্ত জমির এসএ খতিয়ান নং ১১১৩, দাগ নং ৬৩৯ এবং আরএস খতিয়ান নং ১/১, দাগ নং ৯৫৪ উল্লেখ করে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জমির মালিক সুরঞ্জন দেব নাথকেও প্রস্তাবের একটি কপি সরবরাহ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণের এই প্রস্তাবের সুযোগ নিয়ে অধ্যক্ষসহ মোট ৯ জন ব্যক্তি ৭০ হাজার টাকা শতক দরে প্রায় ৫০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. হামজা মাহমুদ বলেন, তিনি আরও কয়েকজন মিলে কলেজের মসজিদের জন্য জমি দানের উদ্দেশ্যে কিছু অংশ ক্রয় করেছেন। বাকি জমি কলেজের প্রভাষক ও কর্মচারীরা কিনেছেন। তবে অধিগ্রহণ প্রস্তাবের সঙ্গে জমি ক্রয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জবাব দেননি, কেবল বলেন—“জমির মালিক বিক্রি করেছে, তাই কিনেছি।”

বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আজাদ হোসেন বলেন, “অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে পরে নিজেই জমি ক্রয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর অবদানে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কলেজের প্রয়োজনে সংলগ্ন জমির প্রয়োজন হতে পারে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

জমির মালিক সুরঞ্জন দেব নাথ জানান, জমিটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তিনি জমি বিক্রি করেছেন। তার দাবি, তিনি ৭০ হাজার টাকা শতক দরে জমি বিক্রি করেছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রেতারা ৯৫ হাজার টাকা শতক দরে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে পুরো উপজেলায় আলোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে যেকোনো সময় সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০২:৪১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৫০৩ বার পড়া হয়েছে

লাখাইয়ে অধিগ্রহণ প্রস্তাবকে ঘিরে জমি ক্রয়ের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

আপডেট সময় ০২:৪১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
9

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের লাগোয়া জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জমি ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হামজা মাহমুদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কলেজ সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠান। উক্ত জমির এসএ খতিয়ান নং ১১১৩, দাগ নং ৬৩৯ এবং আরএস খতিয়ান নং ১/১, দাগ নং ৯৫৪ উল্লেখ করে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জমির মালিক সুরঞ্জন দেব নাথকেও প্রস্তাবের একটি কপি সরবরাহ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণের এই প্রস্তাবের সুযোগ নিয়ে অধ্যক্ষসহ মোট ৯ জন ব্যক্তি ৭০ হাজার টাকা শতক দরে প্রায় ৫০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. হামজা মাহমুদ বলেন, তিনি আরও কয়েকজন মিলে কলেজের মসজিদের জন্য জমি দানের উদ্দেশ্যে কিছু অংশ ক্রয় করেছেন। বাকি জমি কলেজের প্রভাষক ও কর্মচারীরা কিনেছেন। তবে অধিগ্রহণ প্রস্তাবের সঙ্গে জমি ক্রয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জবাব দেননি, কেবল বলেন—“জমির মালিক বিক্রি করেছে, তাই কিনেছি।”

বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আজাদ হোসেন বলেন, “অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে পরে নিজেই জমি ক্রয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর অবদানে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কলেজের প্রয়োজনে সংলগ্ন জমির প্রয়োজন হতে পারে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

জমির মালিক সুরঞ্জন দেব নাথ জানান, জমিটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তিনি জমি বিক্রি করেছেন। তার দাবি, তিনি ৭০ হাজার টাকা শতক দরে জমি বিক্রি করেছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রেতারা ৯৫ হাজার টাকা শতক দরে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে পুরো উপজেলায় আলোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে যেকোনো সময় সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।