মাধবপুরের বাঘাসুরা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে চুরি বেড়েছে, জনজীবনে চরম আতঙ্ক
চোরের উৎপাত বাড়ছে মাধবপুরে, আতঙ্কে বাঘাসুরা ইউনিয়নের মানুষ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বেড়েছে চুরির ঘটনা। ঘন ঘন চুরি ও ছিনতাইয়ের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছোটখাটো জিনিসপত্র থেকে শুরু করে মূল্যবান মালামাল, কিছুই নিরাপদ থাকছে না। ফলে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
স্থানীয়রা জানান, এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে চুরি। শুধু বসতবাড়ি নয়, বিভিন্ন কোম্পানির অফিস, মসজিদ, বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ জনসমাগমস্থলেও চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাতে ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। সারাক্ষণই সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা তাড়া করছে মানুষকে। পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসে কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। ক্রমাগত চুরির ঘটনায় মানসিক চাপ ও আতঙ্কে ভুগছেন সর্বস্তরের মানুষ।
এলাকার সচেতন মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, এই অপরাধ প্রবণতার মূল কারণ মাদকাসক্তি। তারা বলছেন, সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধ, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, হত্যা, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, সবকিছুর পেছনেই কোনো না কোনোভাবে মাদক জড়িত।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার টাকার জন্য ধীরে ধীরে হিংস্র হয়ে ওঠে। প্রথমে নিজের পরিবারের সদস্যদের অলংকার বা টাকা চুরি করে। পরে পরিবার অতিষ্ঠ হলে সে বাইরে নেমে ছিনতাই, চুরি ও পকেটমারিতে জড়িয়ে পড়ে। এভাবেই অনেক ক্ষেত্রে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ভয়ংকর অপরাধীতে পরিণত হয়।
সচেতনরা আরও বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পায়। তখন মাদকই তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। নেশার প্রয়োজনে সে যে কোনো অপরাধ করতে দ্বিধা করে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই হবে না। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, শিশু-কিশোরদের মনে ছোটবেলা থেকেই মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। মাদক যে জীবন ধ্বংস করে এবং মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে না পারলে অপরাধ প্রবণতা কমানো কঠিন হবে।




















