ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি’র মূল নম্বরপত্র ফিরে পেতে শারমিনের আবেগঘন আহ্বান

সুজন মাহমুদ::
172

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল বাজার এলাকায় অসাবধানতাবশত হারিয়ে গেছে এক তরুণীর বহু কষ্টে অর্জিত এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র (মার্কশিট)। হারিয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসনদ ফিরে পেতে হৃদয়বিদারক আবেদন জানিয়েছেন মোছাঃ শারমিন খাতুন সাইমা (২৬)।

তিনি উপজেলার নগর ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের বাসিন্দা। পিতা মোঃ সাদেক আলী ও মাতা মোছাঃ নাজমা বেগমের মেয়ে শারমিন ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০১৭ সালে জিপিএ-৪.২৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তার রোল নম্বর ১১৯৫৯৩, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৪১২৬৬৪৮৬১ এবং কেন্দ্র নম্বর ছিল ২২৫, বড়াইগ্রাম-বি। তিনি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড-এর অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন।

শারমিন জানান, সম্প্রতি লক্ষীকোল বাজারে যাওয়ার সময় নিজের অজান্তেই তার এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রটি হারিয়ে যায়। বিষয়টি টের পাওয়ার পর সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। নম্বরপত্রটি তার ভবিষ্যৎ চাকরি ও উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনি বড়াইগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ৬৪০/৬৫৯, তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। থানায় অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপব্যবহার বা জালিয়াতির আশঙ্কা না থাকে।

এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় শারমিন বলেন, “এই নম্বরপত্র শুধু একটি কাগজ নয়, এটি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্মারক। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের ফল এটি। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি পেয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।”

তিনি আরও জানান, কেউ যদি হারানো নম্বরপত্রটির সন্ধান দিতে পারেন বা ফেরত দিতে সহযোগিতা করেন, তাকে সাধ্যানুযায়ী পুরস্কৃত করা হবে। যোগাযোগের জন্য তিনি মোবাইল নম্বর ০১৭১৮২৬৭৬৯৫ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসনদ বহনের ক্ষেত্রে সবারই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কেউ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কুড়িয়ে পেলে মানবিকতার দৃষ্টিতে তা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই নাগরিক দায়িত্ব।

এদিকে শারমিনের পরিবার ও স্বজনরা নম্বরপত্রটি ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। একটি কাগজের হারিয়ে যাওয়া মানে কখনও কখনও একটি স্বপ্নের পথ থমকে যাওয়া, তবুও আশাবাদী শারমিন বিশ্বাস করেন, মানবিক সমাজে তার এই মূল্যবান অর্জন নিশ্চয়ই আবার তার হাতে ফিরে আসবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৬২৮ বার পড়া হয়েছে

এসএসসি’র মূল নম্বরপত্র ফিরে পেতে শারমিনের আবেগঘন আহ্বান

আপডেট সময় ১০:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
172

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল বাজার এলাকায় অসাবধানতাবশত হারিয়ে গেছে এক তরুণীর বহু কষ্টে অর্জিত এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র (মার্কশিট)। হারিয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসনদ ফিরে পেতে হৃদয়বিদারক আবেদন জানিয়েছেন মোছাঃ শারমিন খাতুন সাইমা (২৬)।

তিনি উপজেলার নগর ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের বাসিন্দা। পিতা মোঃ সাদেক আলী ও মাতা মোছাঃ নাজমা বেগমের মেয়ে শারমিন ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০১৭ সালে জিপিএ-৪.২৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তার রোল নম্বর ১১৯৫৯৩, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৪১২৬৬৪৮৬১ এবং কেন্দ্র নম্বর ছিল ২২৫, বড়াইগ্রাম-বি। তিনি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড-এর অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন।

শারমিন জানান, সম্প্রতি লক্ষীকোল বাজারে যাওয়ার সময় নিজের অজান্তেই তার এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রটি হারিয়ে যায়। বিষয়টি টের পাওয়ার পর সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। নম্বরপত্রটি তার ভবিষ্যৎ চাকরি ও উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনি বড়াইগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ৬৪০/৬৫৯, তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। থানায় অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপব্যবহার বা জালিয়াতির আশঙ্কা না থাকে।

এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় শারমিন বলেন, “এই নম্বরপত্র শুধু একটি কাগজ নয়, এটি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্মারক। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের ফল এটি। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি পেয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।”

তিনি আরও জানান, কেউ যদি হারানো নম্বরপত্রটির সন্ধান দিতে পারেন বা ফেরত দিতে সহযোগিতা করেন, তাকে সাধ্যানুযায়ী পুরস্কৃত করা হবে। যোগাযোগের জন্য তিনি মোবাইল নম্বর ০১৭১৮২৬৭৬৯৫ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসনদ বহনের ক্ষেত্রে সবারই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কেউ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কুড়িয়ে পেলে মানবিকতার দৃষ্টিতে তা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই নাগরিক দায়িত্ব।

এদিকে শারমিনের পরিবার ও স্বজনরা নম্বরপত্রটি ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। একটি কাগজের হারিয়ে যাওয়া মানে কখনও কখনও একটি স্বপ্নের পথ থমকে যাওয়া, তবুও আশাবাদী শারমিন বিশ্বাস করেন, মানবিক সমাজে তার এই মূল্যবান অর্জন নিশ্চয়ই আবার তার হাতে ফিরে আসবে।