ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজেল পেতে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক, হুমকিতে বোরো উৎপাদন

চেকপোস্ট নিউজ::

রংপুরে জ্বালানি তেল সংকট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বোরো ধানের চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে কৃষকদের পাম্প থেকে পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কৃষি অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীসহ কয়েকটি জেলায় চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। এতে কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় বিদ্যুৎচালিত পাম্পে সেচ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে চাষ হয়েছে। মোট জমির প্রায় ৪৫ শতাংশে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন এবং বাকি জমিতে বিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। তবে বর্তমান সংকটে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না। অনেককে ৪–৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল ছাড়া ফিরতে হচ্ছে।

এ সময় বোরো ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ধানে ফুল এসেছে, কোথাও দুধ পর্যায়, আবার কোথাও শীষে দানা বাঁধছে। এই পর্যায়ে নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা না হলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রংপুর সদরসহ গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার একাধিক কৃষক একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী বেতগাড়া এলাকার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, দিন-রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। আবার ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ না করলে উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগবে।

পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আলু চাষে ক্ষতির পর ধান নিয়ে আশা ছিল। এখন সেচ দিতে পারছি না। ধান লালচে হয়ে যাচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও কাজ করছে না।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, প্রতিদিন ১০৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮০–৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে ৬–৭ ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সেচ সংকট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

ডিজেল পেতে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক, হুমকিতে বোরো উৎপাদন

আপডেট সময় ১০:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরে জ্বালানি তেল সংকট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বোরো ধানের চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে কৃষকদের পাম্প থেকে পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কৃষি অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীসহ কয়েকটি জেলায় চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। এতে কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় বিদ্যুৎচালিত পাম্পে সেচ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে চাষ হয়েছে। মোট জমির প্রায় ৪৫ শতাংশে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন এবং বাকি জমিতে বিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। তবে বর্তমান সংকটে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না। অনেককে ৪–৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল ছাড়া ফিরতে হচ্ছে।

এ সময় বোরো ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ধানে ফুল এসেছে, কোথাও দুধ পর্যায়, আবার কোথাও শীষে দানা বাঁধছে। এই পর্যায়ে নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা না হলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রংপুর সদরসহ গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার একাধিক কৃষক একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী বেতগাড়া এলাকার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, দিন-রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। আবার ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ না করলে উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগবে।

পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আলু চাষে ক্ষতির পর ধান নিয়ে আশা ছিল। এখন সেচ দিতে পারছি না। ধান লালচে হয়ে যাচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও কাজ করছে না।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, প্রতিদিন ১০৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮০–৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে ৬–৭ ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সেচ সংকট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।