তৃতীয় বিভাগে নেমে গেল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি

এক দশক আগে যাদের হাতে ছিল ইংল্যান্ডের লিগ চ্যাম্পিয়নের ট্রফি, সেই লেস্টার সিটিই এবার নেমে গেল তৃতীয় বিভাগে। হাল সিটির সঙ্গে ড্রয়ের পরই নিশ্চিত হয়ে যায় হামজা চৌধুরীর দলের এই অবনমন, যা ক্লাবটির সাম্প্রতিক পতনের সবচেয়ে তীব্র চিত্র।
মঙ্গলবার ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লেস্টার। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়েছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আবার গোল হজম করে ম্যাচে ফিরতে ব্যর্থ হয়। ফলে শেষ নিরাপদ অঞ্চলের থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ে ফক্সেসরা, হাতে দুই ম্যাচ থাকলেও অবনমন আর এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এর মাধ্যমে টানা দুই মৌসুমে অবনমনের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো লেস্টারের। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে নামার পর এবার সেখান থেকেও লিগ ওয়ানে নেমে গেল দলটি। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে খুব কম দলই এমন টানা পতনের মুখ দেখেছে।
ম্যাচ শেষে কোচ গ্যারি রোয়েট বলেন, কয়েকটি ম্যাচ নয়, পুরো মৌসুমের ব্যর্থতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তার মতে, ক্লাবকে এখন বাস্তবতা মেনে নিয়ে সামনে এগোনোর পথ খুঁজতে হবে।
সমর্থকদের ক্ষোভও ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের আগে থেকেই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ পায়। ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে শোনা যায় তীব্র বিদ্রূপধ্বনি। ক্লাবের মালিকানার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন সমর্থকেরা।
২০১৬ সালে লেস্টারের ঐতিহাসিক প্রিমিয়ার লিগ জয়, ২০২১ সালে এফএ কাপ জেতা এবং ইউরোপে সাফল্যের দিনগুলো এখন অনেক দূরের স্মৃতি। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ধারাবাহিকভাবে খারাপ পারফরম্যান্সই দলটিকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে।
চলতি মৌসুমে লেস্টার শেষ ১৮ ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। এর সঙ্গে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের কারণে পয়েন্ট কাটা যাওয়াও বড় প্রভাব ফেলেছে তাদের অবস্থানে।
ক্লাব চেয়ারম্যান আইয়াওয়াট শ্রীবদ্ধনপ্রভা অবনমনের দায় স্বীকার করে সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্লাবকে নতুন করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৪২ বছরের ইতিহাসে খুব কমবার তৃতীয় বিভাগে খেলেছে লেস্টার। এবার তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে শীর্ষ পর্যায়ে ফেরা যায়।
এক সময়ের রূপকথার দল এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। সামনে পথটা কঠিন, তবে পুনরুত্থানের লড়াইটাই এখন লেস্টারের একমাত্র লক্ষ্য।


























