ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড়াইগ্রামে সেচ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের অবসান, গ্রাম্য সালিশে মিললো সমাধান

সুজন মাহমুদ, ক্রাইম রিপোর্টার::

বড়াইগ্রাম উপজেলা-এর ২ নম্বর বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের খাকসা-খোকসা এলাকায় সেচ (ডিপ) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ অবশেষে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার পথে এগিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খাকসা-খোকসা বাজারে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট আইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, স্থানীয় চার অংশীদার—ঈমান আলী, রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও পৈরব আলী—যৌথভাবে একটি সেচ প্রকল্প পরিচালনা করছিলেন। পানি বণ্টন, দায়িত্ব ভাগাভাগি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি বৃহৎ সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বড়াইগ্রাম উপজেলা সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ জামাল উদ্দিন আলী

সালিশে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেন সভাপতি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যে কোনো বিরোধের কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন সদস্য নিয়োগ করা হবে। এ সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সম্মতি জানান।

সালিশে আরও উপস্থিত ছিলেন নিজাম উদ্দিন মাস্টার, এনামুল হক মুলু সরকার, গ্রাম পুলিশ করিম হোসাইন, সুলতান দৌসানি, মোজাম্মেল হক বাটুল, মহিদুল উদ্দিন মফিজ, প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা লিটন পারভেজসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অংশীদাররা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতীতের বিরোধ ভুলে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এতে উপস্থিত জনতার মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে সালিশে একটি নতুন অভিযোগও উঠে আসে—সেচ প্রকল্পের পানির পাইপ কেটে নষ্ট করার ঘটনা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে মোতালেব হোসেনের নাম উঠে আসে। বিষয়টি তদন্তের জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল পুনরায় সালিশ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, যে বিরোধ থানায় গিয়েও সমাধান হয়নি, তা গ্রাম্য সালিশে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা বিশেষভাবে জামাল উদ্দিন আলীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে সহায়ক হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫২৩ বার পড়া হয়েছে

বড়াইগ্রামে সেচ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের অবসান, গ্রাম্য সালিশে মিললো সমাধান

আপডেট সময় ০৮:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বড়াইগ্রাম উপজেলা-এর ২ নম্বর বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের খাকসা-খোকসা এলাকায় সেচ (ডিপ) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ অবশেষে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার পথে এগিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খাকসা-খোকসা বাজারে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট আইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, স্থানীয় চার অংশীদার—ঈমান আলী, রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও পৈরব আলী—যৌথভাবে একটি সেচ প্রকল্প পরিচালনা করছিলেন। পানি বণ্টন, দায়িত্ব ভাগাভাগি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি বৃহৎ সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বড়াইগ্রাম উপজেলা সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ জামাল উদ্দিন আলী

সালিশে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেন সভাপতি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যে কোনো বিরোধের কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন সদস্য নিয়োগ করা হবে। এ সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সম্মতি জানান।

সালিশে আরও উপস্থিত ছিলেন নিজাম উদ্দিন মাস্টার, এনামুল হক মুলু সরকার, গ্রাম পুলিশ করিম হোসাইন, সুলতান দৌসানি, মোজাম্মেল হক বাটুল, মহিদুল উদ্দিন মফিজ, প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা লিটন পারভেজসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অংশীদাররা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতীতের বিরোধ ভুলে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এতে উপস্থিত জনতার মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে সালিশে একটি নতুন অভিযোগও উঠে আসে—সেচ প্রকল্পের পানির পাইপ কেটে নষ্ট করার ঘটনা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে মোতালেব হোসেনের নাম উঠে আসে। বিষয়টি তদন্তের জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল পুনরায় সালিশ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, যে বিরোধ থানায় গিয়েও সমাধান হয়নি, তা গ্রাম্য সালিশে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা বিশেষভাবে জামাল উদ্দিন আলীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে সহায়ক হবে।