ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুঠিয়ায় সাবেক মেয়রের বাড়িতে হামলা

গোালম কিবরিয়া পলাশ, রাজশাহী:;
24

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন খানকে খুঁজে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।রাজশাহী ব্যবসা

বুধবার দিবাগত রাতে তাঁকে না পেয়ে তাঁর ফিলিং স্টেশন, শ্বশুরবাড়ি, ভাড়া বাসা ও ব্যক্তিগত গোলঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ফিলিং স্টেশন থেকে নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক মেয়র আল মামুন খান পুঠিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, এমপিপুত্র ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজনের নির্দেশে সশস্ত্র ক্যাডাররা রাতভর তাঁকে খুঁজে বেড়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যারিস্টার রাজন।

জানা গেছে, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। নির্বাচনের আগে সাবেক মেয়র মামুন খান তাঁর পক্ষে ছিলেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার ভদ্রা এলাকায় এমপির অনুসারী সেলিম সরকারের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ভদ্রা মোড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মারধরের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় সেলিম সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে, বিএনপি নেতা সৈয়দ আলীর ছেলে মো. মারুফ দাবি করেন, তাদের পারিবারিক জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সেলিম সরকারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই ঘটনার জেরে তাদের বাড়িতে প্রথমে হামলা চালানো হয়। পরে সাবেক মেয়র মামুন খানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁর ঘনিষ্ঠদের টার্গেট করা হয়।

সাবেক মেয়র আল মামুন খান জানান, রাত ১১টার দিকে কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় তাঁর ফিলিং স্টেশনে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁকে না পেয়ে ক্যাশিয়ারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা লুট করা হয়। এরপর তাঁর শ্বশুরের বাড়ি, ভাড়া বাসা ও গোলঘরেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো সহিংস রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন বলেন, সেলিম সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সাবেক মেয়রের বাড়িঘরে হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, সাবেক মেয়রের শ্বশুরবাড়িতে হামলার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে ফিলিং স্টেশনসহ অন্যান্য স্থানে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাননি। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, সেলিম সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

পুঠিয়ায় সাবেক মেয়রের বাড়িতে হামলা

আপডেট সময় ০৯:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
24

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন খানকে খুঁজে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।রাজশাহী ব্যবসা

বুধবার দিবাগত রাতে তাঁকে না পেয়ে তাঁর ফিলিং স্টেশন, শ্বশুরবাড়ি, ভাড়া বাসা ও ব্যক্তিগত গোলঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ফিলিং স্টেশন থেকে নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক মেয়র আল মামুন খান পুঠিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, এমপিপুত্র ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজনের নির্দেশে সশস্ত্র ক্যাডাররা রাতভর তাঁকে খুঁজে বেড়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যারিস্টার রাজন।

জানা গেছে, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। নির্বাচনের আগে সাবেক মেয়র মামুন খান তাঁর পক্ষে ছিলেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার ভদ্রা এলাকায় এমপির অনুসারী সেলিম সরকারের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ভদ্রা মোড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মারধরের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় সেলিম সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে, বিএনপি নেতা সৈয়দ আলীর ছেলে মো. মারুফ দাবি করেন, তাদের পারিবারিক জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সেলিম সরকারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই ঘটনার জেরে তাদের বাড়িতে প্রথমে হামলা চালানো হয়। পরে সাবেক মেয়র মামুন খানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁর ঘনিষ্ঠদের টার্গেট করা হয়।

সাবেক মেয়র আল মামুন খান জানান, রাত ১১টার দিকে কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় তাঁর ফিলিং স্টেশনে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁকে না পেয়ে ক্যাশিয়ারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা লুট করা হয়। এরপর তাঁর শ্বশুরের বাড়ি, ভাড়া বাসা ও গোলঘরেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো সহিংস রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন বলেন, সেলিম সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সাবেক মেয়রের বাড়িঘরে হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, সাবেক মেয়রের শ্বশুরবাড়িতে হামলার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে ফিলিং স্টেশনসহ অন্যান্য স্থানে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাননি। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, সেলিম সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।