ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

চেকপোস্ট ডেস্ক::
83

চলতি সপ্তাহ শেষেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামলা চালানোর অনুমোদন দেবন কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনও বাকি।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-কে এ খবর জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পর হোয়াইট হাউজকে এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে যে, সামরিক বাহিনী এ সপ্তাহ শেষেই হামলা চালাতে প্রস্তুত।

তবে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে এবং বিপক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন। সবচেয়ে ভাল কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে তিনি উপদেষ্টা ও মিত্রদের মতামতও নিয়েছেন।

বুধবার হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

একই দিনে ট্রাম্পকে ব্রিফিং দেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা আগের দিন ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার বিষয়েও ট্রাম্পকে অবহিত করেন।

তবে এ সপ্তাহান্তের মধ্যেই ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কি-না তা স্পষ্ট নয়। “ট্রাম্প এখনও অনেক সময় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন,” বলেন এক কর্মকর্তা।

এর আগে মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা সাড়ে তিন ঘণ্টা পরোক্ষ আলোচনা করেন এবং একে অপরের কাছে নোট আদান-প্রদান করেন।

তবে আলোচনা কোনও স্পষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। ইরানের শীর্ষ আলোচক বলেন, উভয়পক্ষ একটি ‘নির্দেশিকা নীতিমালায়’ একমত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এখনও অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি।”

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার বলেন, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ওই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন কি না সে ব্যাপারে লেভিট কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে চাই না। কূটনীতি সব সময়ই তার প্রথম পছন্দ, তবে সামরিক পদক্ষেপও বিকল্প হিসেবে হাতে রয়েছে।”

তার কথায়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ দেখানো এবং যুক্তি খাড়া করা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা টিমের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

আপডেট সময় ০৯:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
83

চলতি সপ্তাহ শেষেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামলা চালানোর অনুমোদন দেবন কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনও বাকি।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-কে এ খবর জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পর হোয়াইট হাউজকে এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে যে, সামরিক বাহিনী এ সপ্তাহ শেষেই হামলা চালাতে প্রস্তুত।

তবে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে এবং বিপক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন। সবচেয়ে ভাল কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে তিনি উপদেষ্টা ও মিত্রদের মতামতও নিয়েছেন।

বুধবার হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

একই দিনে ট্রাম্পকে ব্রিফিং দেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা আগের দিন ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার বিষয়েও ট্রাম্পকে অবহিত করেন।

তবে এ সপ্তাহান্তের মধ্যেই ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কি-না তা স্পষ্ট নয়। “ট্রাম্প এখনও অনেক সময় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন,” বলেন এক কর্মকর্তা।

এর আগে মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা সাড়ে তিন ঘণ্টা পরোক্ষ আলোচনা করেন এবং একে অপরের কাছে নোট আদান-প্রদান করেন।

তবে আলোচনা কোনও স্পষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। ইরানের শীর্ষ আলোচক বলেন, উভয়পক্ষ একটি ‘নির্দেশিকা নীতিমালায়’ একমত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এখনও অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি।”

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার বলেন, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ওই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন কি না সে ব্যাপারে লেভিট কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে চাই না। কূটনীতি সব সময়ই তার প্রথম পছন্দ, তবে সামরিক পদক্ষেপও বিকল্প হিসেবে হাতে রয়েছে।”

তার কথায়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ দেখানো এবং যুক্তি খাড়া করা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা টিমের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।