ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজস্ব বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি

চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ২০২৫ সালে ১,৮০৪ কোটি টাকা জমা

মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম::
16

২০২৫ সালে কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কর-বহির্ভূত আয় মিলিয়ে সরকারের কোষাগারে এক হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আগের বছরের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সেবার মান বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ এই পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ে গড়ে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে কঠোর নীতি অনুসরণের ফলে গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২১-২৫ সময়ে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্যাট, কর ও কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) বাবদ সরকারের কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে কর হিসেবে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। কর-বহির্ভূত আয় থেকে জমা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
বছরভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছিল ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তার আগের বছর ২০২৩ সালে জমা পড়ে ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বিপরীতে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে ওই বছরে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগের বছর ২০২৪ সালেও ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্জন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই বছর বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ২০২৩, ২০২২ ও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য সবচেয়ে সফল বছর ছিল ২০২৪ সাল। ওই বছর রাজস্ব আয় বেড়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২৫ সালেও আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই হার আরও কমিয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়। তবে ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে পৌঁছে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৭:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

রাজস্ব বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি

চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ২০২৫ সালে ১,৮০৪ কোটি টাকা জমা

আপডেট সময় ০৭:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
16

২০২৫ সালে কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কর-বহির্ভূত আয় মিলিয়ে সরকারের কোষাগারে এক হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আগের বছরের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সেবার মান বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ এই পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ে গড়ে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে কঠোর নীতি অনুসরণের ফলে গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২১-২৫ সময়ে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্যাট, কর ও কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) বাবদ সরকারের কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে কর হিসেবে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। কর-বহির্ভূত আয় থেকে জমা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
বছরভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছিল ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তার আগের বছর ২০২৩ সালে জমা পড়ে ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বিপরীতে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে ওই বছরে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগের বছর ২০২৪ সালেও ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্জন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই বছর বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ২০২৩, ২০২২ ও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য সবচেয়ে সফল বছর ছিল ২০২৪ সাল। ওই বছর রাজস্ব আয় বেড়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২৫ সালেও আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই হার আরও কমিয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়। তবে ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে পৌঁছে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।