ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি প্রার্থীর

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী প্রতিনিধি::

ছবি: সংগৃহীত

127

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এক প্রার্থী। লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।

অভিযোগকারী প্রার্থীর নাম রাহাত ইসলাম (হৃদয়)। তিনি রাবির নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৬৩ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৬ পেয়ে উভয় পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন রাহাত। তবে তিনি মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হননি। অভিযোগে তিনি বলেন, “পরীক্ষার আগে আমার কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। আমি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাইভা বোর্ডে আমার নাম রাখা হয়নি।”

এরপর তিনি ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং এর কপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কেও ডাকযোগে পাঠান। অভিযোগের সঙ্গে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আড়াই মিনিটের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সংযুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নুরুল হুদার মাধ্যমে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা উপদেষ্টা ও ইউজিসি-কে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। আইনজীবী জানান, “যথাযথ তদন্ত করে নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় রিট করা হবে।”

রাহাতের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে আগে থেকেই প্রশ্নপত্র ও বিষয়ের তথ্য দিয়ে সুবিধা দেওয়া হয় এবং অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার চেষ্টা চলে।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন, যদি চাকরি চাই, তাহলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অর্থ দিতে হবে। অর্থ ছাড়া চাকরি পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে নিয়োগ বোর্ডে যাকে বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছিল, পরে তাকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে রাখা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মীর মেহবুব আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ মনগড়া। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ওই ছাত্র প্রথম ১০ জনের মধ্যেও আসতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “বিশেষজ্ঞ পরিবর্তন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। কথোপকথনের অডিওও ভুয়া হতে পারে, এখন তো এআই দিয়ে অনেক কিছু বানানো যায়।”

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। আইনি নোটিশ এলে সেটাও আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে।”

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
৬৩৮ বার পড়া হয়েছে

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি প্রার্থীর

আপডেট সময় ০৮:১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
127

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এক প্রার্থী। লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।

অভিযোগকারী প্রার্থীর নাম রাহাত ইসলাম (হৃদয়)। তিনি রাবির নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৬৩ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৬ পেয়ে উভয় পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন রাহাত। তবে তিনি মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হননি। অভিযোগে তিনি বলেন, “পরীক্ষার আগে আমার কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। আমি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাইভা বোর্ডে আমার নাম রাখা হয়নি।”

এরপর তিনি ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং এর কপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কেও ডাকযোগে পাঠান। অভিযোগের সঙ্গে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আড়াই মিনিটের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সংযুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নুরুল হুদার মাধ্যমে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা উপদেষ্টা ও ইউজিসি-কে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। আইনজীবী জানান, “যথাযথ তদন্ত করে নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় রিট করা হবে।”

রাহাতের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে আগে থেকেই প্রশ্নপত্র ও বিষয়ের তথ্য দিয়ে সুবিধা দেওয়া হয় এবং অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার চেষ্টা চলে।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন, যদি চাকরি চাই, তাহলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অর্থ দিতে হবে। অর্থ ছাড়া চাকরি পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে নিয়োগ বোর্ডে যাকে বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছিল, পরে তাকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে রাখা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মীর মেহবুব আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ মনগড়া। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ওই ছাত্র প্রথম ১০ জনের মধ্যেও আসতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “বিশেষজ্ঞ পরিবর্তন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। কথোপকথনের অডিওও ভুয়া হতে পারে, এখন তো এআই দিয়ে অনেক কিছু বানানো যায়।”

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। আইনি নোটিশ এলে সেটাও আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে।”