চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পাহাড় ও টিলা কাটার মতো পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের বনাঞ্চল ম্যাপিং করার পাশাপাশি নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএফআরআই, বিএফআইডিসি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “ইটভাটা, শব্দদূষণ এবং পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার দ্রুত বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জনগণকেও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা বন উজাড় রোধ, পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ জোর দেন। তিনি মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ. কে. এম. তাহমিদুল ইসলামসহ বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
সরকারের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।