ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, ১০ দিনে নিহত ৬৮৭

চেকপোস্ট ডেস্ক::
28

দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। দুই সপ্তাহ হয়ে এলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বাড়ছে।

এদিকে শুধু ইরানই নয়; মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ লেবাননেও নতুন করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত ২ মার্চ থেকে এই নতুন দফার হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন দেশটিতে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু রয়েছে। সেইসঙ্গে আরও আছেন ৬২ জন নারী ও ১৮ জন প্যারামেডিক।

একই সময়ে ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়ে লেবাননে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৪ জনে। আহতদের মধ্যে ৩০৪ জন শিশু, ৩২৮ জন নারী এবং ৪৫ জন প্যারামেডিক রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। গত ২ মার্চ ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে লেবাননের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর জবাবে ইসরায়েলও নতুন করে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল, দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করে দখলদার বাহিনী।

১৪ দিন ধরে চলমান এসব হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

এরই মধ্যে লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) লেবানন সরকারের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং তাদের ভূমি দখল করে নেবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরের জনপদগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে স্থায়ী সামরিক অঞ্চল বা ‘সিকিউরিটি জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে তেল আবিব।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যেই লেবাননের অভ্যন্তরে স্থল অভিযানের একটি নীল নকশা বা ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ অনুমোদন করে রেখেছে। যদিও দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার আগে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৪:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
৫১৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, ১০ দিনে নিহত ৬৮৭

আপডেট সময় ০৪:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
28

দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। দুই সপ্তাহ হয়ে এলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বাড়ছে।

এদিকে শুধু ইরানই নয়; মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ লেবাননেও নতুন করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত ২ মার্চ থেকে এই নতুন দফার হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন দেশটিতে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু রয়েছে। সেইসঙ্গে আরও আছেন ৬২ জন নারী ও ১৮ জন প্যারামেডিক।

একই সময়ে ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়ে লেবাননে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৪ জনে। আহতদের মধ্যে ৩০৪ জন শিশু, ৩২৮ জন নারী এবং ৪৫ জন প্যারামেডিক রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। গত ২ মার্চ ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে লেবাননের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর জবাবে ইসরায়েলও নতুন করে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল, দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করে দখলদার বাহিনী।

১৪ দিন ধরে চলমান এসব হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

এরই মধ্যে লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) লেবানন সরকারের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং তাদের ভূমি দখল করে নেবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরের জনপদগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে স্থায়ী সামরিক অঞ্চল বা ‘সিকিউরিটি জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে তেল আবিব।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যেই লেবাননের অভ্যন্তরে স্থল অভিযানের একটি নীল নকশা বা ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ অনুমোদন করে রেখেছে। যদিও দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার আগে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন।