“মাজায় আর কুলচ্ছে না”: ফুলবাড়িগেট–তেলিগাতি সড়কে ঝাঁকুনিতে বিপর্যস্ত হাজারো মানুষের জীবন

“মাজায় আর কুলচ্ছে না, ঝাঁকি খাইতে খাইতে জীবন শেষ। প্রতিদিন ডাক্তারের কাছে যাইতে হচ্ছে।” – ফুলবাড়িগেট-কুয়েট সংযোগ সড়কের ইজিবাইক স্ট্যান্ডে বসে এমন কথাই জানালেন ভ্যানচালক মোঃ শহীদ হাওলাদার।
তিনি বলেন, “ভ্যানের অবস্থা বেহাল। প্রতিদিন গ্যারেজে নিতে হয়, কখনো টায়ার নষ্ট, কখনো চাকা টাল। ঝাঁকুনির কারণে যাত্রী উঠতে চায় না, আয়ও কমে গেছে। সংসার চলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তা যদি সমান থাকতো, যাত্রীরা উঠতো, গাড়িও টিকতো।”
শহীদের মতো প্রায় আড়াই শতাধিক রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চালক প্রতিদিন এই সড়কে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন করেন। দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, ১,১০০ শিক্ষক–কর্মকর্তা, এবং আশপাশের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন।
এছাড়া গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, প্রতিভা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, মিজান একাডেমি, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সিআরবি প্রজেক্ট-২-এর আওতায় ২৩ কোটি টাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করে মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, দু’দফা সময় বাড়িয়েও মাত্র ১,১৮৮ মিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়নি।
বর্তমানে কাজ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমে, চলাচল হয়ে পড়ে দুরূহ। মাতৃত্বকালীন নারীদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী এবিএম মামুনুর রশিদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কের এমন বেহাল অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েও কোনো সাড়া মিলছে না।”
গভঃ ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে তেলিগাতি পাকার মাথা পর্যন্ত মাত্র ৪০০ মিটার রাস্তার সংস্কারের দায়িত্বে আছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)। ৯২ লাখ টাকায় আলমগীর ফকির নামের একজন ঠিকাদার কাজটি হাতে নিলেও গত তিন মাস ধরে কাজ বন্ধ।
সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ভ্যান ও মোটরযান প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশল দপ্তরের একাধিক তাগিদ সত্ত্বেও কাজ দ্রুত শেষ করতে অনাগ্রহী ঠিকাদার। যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন ও ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একদিকে মিল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগামী লোকজনও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ভ্যানচালক শহীদের মতো অনেকেই বলছেন, “রাস্তা ঠিক থাকলে জীবিকা চলতো। এখন গাড়ি ভাঙে, আয় কমে, জীবনও যেন ঝাঁকুনিতে আটকে গেছে।”


























