অটোপাশের দাবিতে উত্তাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে আহত ৩০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর গাড়ি আটকে তাকে ‘হেনস্তা’ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সোমবার সকালে ৪ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মানববন্ধনের ডাক দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই বিষয়ে ভালো পরীক্ষা দিয়েও তাদের ৩-৪ বার অকৃতকার্য দেখানো হচ্ছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষকদের গাফিলতি আছে কি না, তা যাচাই করতে তদন্ত কমিশন গঠনসহ কয়েকটি দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তারা তাদের বেধড়ক মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। এতে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের গাড়ির ওপর চড়াও হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছে। এর আগেও গত ২১ মে একইভাবে হামলার শিকার হয়েছিলেন উপাচার্য।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর অটোপাশের দাবি নাকচ করে অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ বলেন, সামনের দিনগুলোতে শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটোপাশ এবং গ্রেস নিরুৎসাহিত করছে। এ ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একবার অটোপাশ দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
জানতে চাইলে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, খাতা দেখাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


























