বানিয়াচংয়ে অপহরণের পর নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দু’জন কারাগারে, পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় দুই সন্তানের জননী এক নারীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের পাইকপাড়া মহল্লা থেকে ওই নারী চট্টগ্রামে বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি সেখানে পৌঁছাননি। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে স্থানীয় একটি বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই নারীকে একটি স্থানীয় যানবাহনে যেতে দেখা গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট চালকসহ দু’জনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা ও তাদের সহযোগীরা মিলে ওই নারীকে অপহরণের পর নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে। এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্বজন বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামীসহ দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সোহান (২৬) ও আকাশ রবি দাস (৩২)।
অন্যদিকে, নিখোঁজের দুই দিন পর ৪ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
৬ এপ্রিল (সোমবার) গ্রেফতারকৃত আসামিদের জামিন আবেদন করলে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারেক শাওন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















