ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মামলাজট নিরসনে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

চেকপোস্ট ডেস্ক::
15

দেশের মামলাজট নিরসনে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।

অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলাজট নিরসনের জন্যে কোনো একক কারণকে দায়ী করা যেমন ঠিক হবে না, আবার এক্ষেত্রে কোনো একটি কারণের সমাধান করলেই পুরো জিনিসটা সমাধান হয়ে যাবে তাও না। আমাদের আদালতে মামলার স্তুপের জন্য অনেকগুলো কারণ আছে। এক্ষেত্রে আমি প্রধান কারণ হিসেবে মনে করি আমাদের মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত কারণ।

মিথ্যা মামলার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কেন জানি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত বোধ করেন। আর কোনো একজন ব্যক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অপরাধ করলে সেই ব্যক্তির পাশাপাশি আরও অনেক ব্যক্তিকে আসামি করার প্রবণতা আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে কাজ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে যার প্রকৃত ক্ষোভ এবং অভিযোগ তাকে শায়েস্তা করতে গিয়ে আশেপাশের অনেক নিরীহ ব্যক্তি মামলার আসামি হয়ে যান। আর যখন আসামি হয়ে যান তারাও ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে আসেন। সেক্ষেত্রে কখনও জামিনের জন্যে, কখনও স্থগিত আদেশের জন্যে, কখনও আবার সাজা হলে সাজার বিরুদ্ধে আপিলের জন্যে, আপিল নিষ্পত্তি হলে আবার উচ্চ আদালতে রিভিউ করার জন্যে মানুষ আদালতে আসেন। এভাবেই একটা মামলার অনেকগুলো শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়ে যায় এবং মামলার স্তুপ তৈরি হয়।

মামলা জট নিরসনের প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য মূল যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আর দেওয়ানি মামলাগুলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। এমনকি আদালতে মামলার চাপ কমানোর জন্যে গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করা যেতে পারে। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত না কিংবা গুরুতর অপরাধের জন্য সাজা হবে না এমন সাধারণ অপরাধের বিচার গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সেই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করলে মামলাকারী ব্যক্তির সাজা অভিযুক্ত ব্যক্তির থেকে বেশি করা যেতে পারে। মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে বেশি সাজার ভীতি যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের মধ্যে ঢুকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস (কাজল) বলেন, এখনও আমাদের উচ্চ আদালতে বহু মামলা আছে যার সারবত্তা নেই। আবার বহু মামলা আছে যার প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। এসব মামলা জট বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আমাদের আইন ব্যবস্থার মধ্যে ইতোমধ্যেই অনেকগুলো ক্ষেত্রে আইন সুনির্দিষ্ট হয়ে গেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মামলা চলবে? আর চলবে না। কিন্তু হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে যে, সর্বোচ্চ আদালতের রায় হওয়া সত্ত্বেও অনেক মামলায় আবার হাইকোর্ট রুল জারি করছেন। পরে আবার তা হাইকোর্ট হয়ে আপিল বিভাগে যাচ্ছে। এগুলোকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই নতুন করে মামলার স্তুপ গড়ে উঠবে না। আমাদের বর্তমান প্রধান বিচারপতি আসার পর অতি সম্প্রতি আপিল বিভাগ কয়েক হাজার মামলা নিষ্পত্তি করেছেন, যা প্রশংসনীয়।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০১:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

মামলাজট নিরসনে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় ০১:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
15

দেশের মামলাজট নিরসনে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।

অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলাজট নিরসনের জন্যে কোনো একক কারণকে দায়ী করা যেমন ঠিক হবে না, আবার এক্ষেত্রে কোনো একটি কারণের সমাধান করলেই পুরো জিনিসটা সমাধান হয়ে যাবে তাও না। আমাদের আদালতে মামলার স্তুপের জন্য অনেকগুলো কারণ আছে। এক্ষেত্রে আমি প্রধান কারণ হিসেবে মনে করি আমাদের মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত কারণ।

মিথ্যা মামলার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কেন জানি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত বোধ করেন। আর কোনো একজন ব্যক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অপরাধ করলে সেই ব্যক্তির পাশাপাশি আরও অনেক ব্যক্তিকে আসামি করার প্রবণতা আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে কাজ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে যার প্রকৃত ক্ষোভ এবং অভিযোগ তাকে শায়েস্তা করতে গিয়ে আশেপাশের অনেক নিরীহ ব্যক্তি মামলার আসামি হয়ে যান। আর যখন আসামি হয়ে যান তারাও ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে আসেন। সেক্ষেত্রে কখনও জামিনের জন্যে, কখনও স্থগিত আদেশের জন্যে, কখনও আবার সাজা হলে সাজার বিরুদ্ধে আপিলের জন্যে, আপিল নিষ্পত্তি হলে আবার উচ্চ আদালতে রিভিউ করার জন্যে মানুষ আদালতে আসেন। এভাবেই একটা মামলার অনেকগুলো শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়ে যায় এবং মামলার স্তুপ তৈরি হয়।

মামলা জট নিরসনের প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য মূল যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আর দেওয়ানি মামলাগুলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। এমনকি আদালতে মামলার চাপ কমানোর জন্যে গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করা যেতে পারে। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত না কিংবা গুরুতর অপরাধের জন্য সাজা হবে না এমন সাধারণ অপরাধের বিচার গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সেই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করলে মামলাকারী ব্যক্তির সাজা অভিযুক্ত ব্যক্তির থেকে বেশি করা যেতে পারে। মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে বেশি সাজার ভীতি যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের মধ্যে ঢুকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস (কাজল) বলেন, এখনও আমাদের উচ্চ আদালতে বহু মামলা আছে যার সারবত্তা নেই। আবার বহু মামলা আছে যার প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। এসব মামলা জট বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আমাদের আইন ব্যবস্থার মধ্যে ইতোমধ্যেই অনেকগুলো ক্ষেত্রে আইন সুনির্দিষ্ট হয়ে গেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মামলা চলবে? আর চলবে না। কিন্তু হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে যে, সর্বোচ্চ আদালতের রায় হওয়া সত্ত্বেও অনেক মামলায় আবার হাইকোর্ট রুল জারি করছেন। পরে আবার তা হাইকোর্ট হয়ে আপিল বিভাগে যাচ্ছে। এগুলোকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই নতুন করে মামলার স্তুপ গড়ে উঠবে না। আমাদের বর্তমান প্রধান বিচারপতি আসার পর অতি সম্প্রতি আপিল বিভাগ কয়েক হাজার মামলা নিষ্পত্তি করেছেন, যা প্রশংসনীয়।