ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি কী, কেন হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চেকপোস্ট ডেস্ক::
13

সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পারছে না। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইরানের কিছু কৌশলগত শক্তি, যা পুরো যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিচ্ছে।

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই তা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে।

এ কারণে যুদ্ধ শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ইরান খুব কম সামরিক শক্তি ব্যবহার করেও বড় প্রভাব ফেলতে পারছে। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই তারা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও এখন তারা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

আরেকটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলযুদ্ধে জড়ায়, তাহলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়বে। এতে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইরানের আরেকটি কৌশলগত শক্তি হলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপ দখল করা বা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, এতে যুদ্ধ শেষ হবে না। বরং ইরান আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০১:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি কী, কেন হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০১:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
21

সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পারছে না। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইরানের কিছু কৌশলগত শক্তি, যা পুরো যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিচ্ছে।

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই তা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে।

এ কারণে যুদ্ধ শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ইরান খুব কম সামরিক শক্তি ব্যবহার করেও বড় প্রভাব ফেলতে পারছে। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই তারা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও এখন তারা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

আরেকটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলযুদ্ধে জড়ায়, তাহলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়বে। এতে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইরানের আরেকটি কৌশলগত শক্তি হলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপ দখল করা বা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, এতে যুদ্ধ শেষ হবে না। বরং ইরান আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন