ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে গিলাতলী জগন্নাথ মন্দিরে কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে নামছে প্রশাসন

শেখ মো. শাহিন উদ্দীন, মাধবপুর প্রতিনিধি::
21

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গিলাতলীর জগন্নাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে উঠা কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
ইউএনওর নির্দেশে অভিযোগটি তদন্ত করছেন উপজেলা সমবায় অফিসার ইসমাইল তালুকদার।

অভিযুক্তরা হলেন—মন্দির কমিটির সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন, সাধারণ সম্পাদক পংকজ পাল, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার, সদস্য মুক্তিপদ রায় ও মনজ পাল।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মন্দিরের দিঘি ইজারা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, দিঘির কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রির অর্থ, প্রায় ১০ একর জমির ইজারা বাবদ আয়, আরও ২ একর বেদখল জমির আয় এবং ভক্তদের দান-অনুদানের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই দিঘি খননের জন্য ২২ লাখ টাকা সদস্য মুক্তিপদ রায়কে দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই দিঘি থেকে কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রি করেন। এছাড়া ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকারের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও উঠেছে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করেই মুক্তিপদ রায় মাধবপুর পৌর এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ও ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। তথ্য অধিকার আইনে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে কমিটির পক্ষ থেকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে মন্দিরের পুরোহিত ও যোগীরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”
হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার বলেন, “কাগজে আমার স্বাক্ষর থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো অন্যরা নিয়েছেন। কাগজে-কলমে আমার কোনো দায় নেই। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম জানান, “মন্দিরটি পরিচালনা কমিটির অধীনে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার সকাল ১১টায় গিলাতলী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে সরেজমিন তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন উপজেলা সমবায় অফিসার মো. ইসমাইল তালুকদার। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত না থাকলে একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৫:১২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
৫১০ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুরে গিলাতলী জগন্নাথ মন্দিরে কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে নামছে প্রশাসন

আপডেট সময় ০৫:১২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
21

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গিলাতলীর জগন্নাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে উঠা কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
ইউএনওর নির্দেশে অভিযোগটি তদন্ত করছেন উপজেলা সমবায় অফিসার ইসমাইল তালুকদার।

অভিযুক্তরা হলেন—মন্দির কমিটির সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন, সাধারণ সম্পাদক পংকজ পাল, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার, সদস্য মুক্তিপদ রায় ও মনজ পাল।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মন্দিরের দিঘি ইজারা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, দিঘির কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রির অর্থ, প্রায় ১০ একর জমির ইজারা বাবদ আয়, আরও ২ একর বেদখল জমির আয় এবং ভক্তদের দান-অনুদানের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই দিঘি খননের জন্য ২২ লাখ টাকা সদস্য মুক্তিপদ রায়কে দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই দিঘি থেকে কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রি করেন। এছাড়া ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকারের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও উঠেছে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করেই মুক্তিপদ রায় মাধবপুর পৌর এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ও ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। তথ্য অধিকার আইনে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে কমিটির পক্ষ থেকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে মন্দিরের পুরোহিত ও যোগীরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”
হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার বলেন, “কাগজে আমার স্বাক্ষর থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো অন্যরা নিয়েছেন। কাগজে-কলমে আমার কোনো দায় নেই। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম জানান, “মন্দিরটি পরিচালনা কমিটির অধীনে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার সকাল ১১টায় গিলাতলী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে সরেজমিন তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন উপজেলা সমবায় অফিসার মো. ইসমাইল তালুকদার। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত না থাকলে একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।