মাধবপুরে মসজিদে তালা, ১২ দিন পর মাহফিলে ১৪৪ ধারা-ইউএনও’র সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মসজিদে তালা ঝুলানো এবং পরবর্তীতে একটি ধর্মীয় মাহফিল বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জাহিদ বিন কাসেমের এমন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৫ মার্চ বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা প্রয়োগ করে উত্তর বরগ গ্রামের ‘উত্তর বরগ আল মদিনা জামে মসজিদ’-এ ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এতে মসজিদটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হলে মুসল্লিরা নামাজসহ ধর্মীয় কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক যুগ আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্মিত মসজিদটির নাম ছিল ‘উত্তর বরগ আল মদিনা জামে মসজিদ’।
পরবর্তীতে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রবাসী এক ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রামবাসীকে না জানিয়ে মসজিদের নাম পরিবর্তন করে ‘উত্তর বরগ আল হানী জামে মসজিদ’ রাখা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সম্প্রতি গ্রামবাসী পুরনো নাম পুনর্বহালের জন্য নামফলক স্থাপনের উদ্যোগ নিলে বিরোধ আরও তীব্র হয়। এ ঘটনায় এক পক্ষ ইউএনও কার্যালয়ে অভিযোগ দিলে, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারির অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।
এরই ধারাবাহিকতায়, মসজিদে নিষেধাজ্ঞা জারির ১২ দিনের মাথায় শিমুলঘর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের একটি পূর্বনির্ধারিত মাহফিলেও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে রেখে আয়োজিত এ মাহফিলের একদিন আগে, ২৭ মার্চ এ আদেশ জারি করা হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত মাহফিলে হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের উদ্যোগে বক্তাকে প্রটোকল দিয়ে মঞ্চে আনা হয় এবং অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
মাহফিল পরিচালনা কমিটির সদস্য মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী বলেন, “একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উচিত নিরপেক্ষভাবে সরেজমিন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারো প্রভাবে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা জারি করা কাম্য নয়।”
এ বিষয়ে কচুয়া মিরানীয়া দরবার শরীফের পীর আল্লামা মুফতী মোস্তাক আহমদ কাদরী আল-ওয়ায়েসী বলেন, “মসজিদ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলে তা প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা যেত। কিন্তু সরাসরি ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতাশাজনক।”
অন্যদিকে ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর আল্লামা মুফতী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী বলেন, “গুজবের ভিত্তিতে মসজিদ ও মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন।




















