ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাগ্য বদলাতে সমুদ্রে প্রাণ গেল সিলেট-সুনামগঞ্জের ১৮ যুবকের

চেকপোস্ট ডেস্ক::
2

লিবিয়া থেকে রাবার নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১৮ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নৌকা পথ হারিয়ে সাগরে ছয় দিন ভাসছিল। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা যান অভিবাসন প্রত্যাশীরা।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর এই ঘটনাটি জানাজানি হলে জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একজন দালালের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৪)।

বিষয়টি গ্রিস থেকে জানিয়েছেন ওই যুবকদের সঙ্গে থাকা দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের রুহান মিয়া। ওই ১৮ যুবক অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের আরেক যুবক। তার একটি ভিডিও আজ শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া ঘেকে সাগরপথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদের বড় নৌকার কথা বলে ছোট হাওয়াই (রাবার) নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। ওই নৌকায় পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুই দিন নৌকায় রাখা হয়েছিল। পরে পঁচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

মারা যাওয়া মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই ব্যবসায়ী জাকারিয়া বলেন, ‘প্রতিজন ১২ লাখ টাকায় চুক্তিতে জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিল। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে সৌদি আরব থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া নেওয়া হয় এবং লিবিয়া নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে সাহানের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আজ চাচাতো ভাই রুহান জানায় তাদের বোট পথ হারিয়ে ৫-৬ দিন সাগরে ভেসে ভেসে বেরিয়েছে। খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেলে তারা সাগরের পানি পান করলে মারা যায়। সুনামগঞ্জের ১২-১৪ জন মারা গেছে। মারা যাওয়ার পর তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোয়ারাবাজার উপজেলার জসিম উদ্দিন নামের এক দালালের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। জসিম উদ্দিন লিবিয়ায় থাকে ও সুনামগঞ্জের যুবকদের অবৈধভাবে সাগরপথে গ্রিসে পাঠায়।’

এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলার চেষ্টা করছি।’

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি দিরাইয়ের চারজন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক এবং মর্মান্তিক। যুবকদের মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
৫০১ বার পড়া হয়েছে

ভাগ্য বদলাতে সমুদ্রে প্রাণ গেল সিলেট-সুনামগঞ্জের ১৮ যুবকের

আপডেট সময় ১১:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
2

লিবিয়া থেকে রাবার নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১৮ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নৌকা পথ হারিয়ে সাগরে ছয় দিন ভাসছিল। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা যান অভিবাসন প্রত্যাশীরা।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর এই ঘটনাটি জানাজানি হলে জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একজন দালালের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৪)।

বিষয়টি গ্রিস থেকে জানিয়েছেন ওই যুবকদের সঙ্গে থাকা দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের রুহান মিয়া। ওই ১৮ যুবক অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের আরেক যুবক। তার একটি ভিডিও আজ শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া ঘেকে সাগরপথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদের বড় নৌকার কথা বলে ছোট হাওয়াই (রাবার) নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। ওই নৌকায় পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুই দিন নৌকায় রাখা হয়েছিল। পরে পঁচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

মারা যাওয়া মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই ব্যবসায়ী জাকারিয়া বলেন, ‘প্রতিজন ১২ লাখ টাকায় চুক্তিতে জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিল। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে সৌদি আরব থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া নেওয়া হয় এবং লিবিয়া নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে সাহানের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আজ চাচাতো ভাই রুহান জানায় তাদের বোট পথ হারিয়ে ৫-৬ দিন সাগরে ভেসে ভেসে বেরিয়েছে। খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেলে তারা সাগরের পানি পান করলে মারা যায়। সুনামগঞ্জের ১২-১৪ জন মারা গেছে। মারা যাওয়ার পর তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোয়ারাবাজার উপজেলার জসিম উদ্দিন নামের এক দালালের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। জসিম উদ্দিন লিবিয়ায় থাকে ও সুনামগঞ্জের যুবকদের অবৈধভাবে সাগরপথে গ্রিসে পাঠায়।’

এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলার চেষ্টা করছি।’

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি দিরাইয়ের চারজন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক এবং মর্মান্তিক। যুবকদের মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’