ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে তাহেরীর মাহফিল, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চলবে না’ বক্তব্যে উত্তাপ

শেখ শাহাউর রহমান বেলাল::
46

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ইসলামি মাহফিল করেছেন আলোচিত বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৫টায় শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত মাহফিলে তিনি বলেন, “কোন ইঞ্জিনিয়ারিং চলবে না। ইঞ্জিনিয়ারিং করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মাহফিল বন্ধ করা যাবে না।”

শিমুলঘর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামি সুন্নী মহা সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরজাদা আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক আল হোসাইনি এবং পীরে তরীকত আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি মোস্তাক আহমেদ ক্বাদেরী আল ওয়ায়েসী।

মাহফিলে তাহেরী বলেন, “নবী প্রেমিকদের কেউ বাধা দিয়ে আটকাতে পারে না। যারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে সুন্নীয়দের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করেছে তারা নবী প্রেমিক হতে পারে না, তারা মুনাফেক।”

এর আগে “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে একই দিনে আরেকটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। তবে উক্ত পোস্টারে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২৭ মার্চ (শুক্রবার) মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে শিমুলঘর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, “নাটকীয় পরিস্থিতি” তৈরি করেই প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে, মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন, একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে মাহফিল বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়।

এদিকে, ১৪৪ ধারা জারির পরও মাহফিল সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিপুল জনসমাগমে মাহফিল সফল হওয়ায় তাহেরী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চলবে না’ মন্তব্যটি করেন।

তার বক্তব্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলতে তিনি মূলত পরিকল্পিত কৌশল বা বাধা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে বোঝাতে চেয়েছেন, যা বাস্তবে সবসময় কার্যকর হয় না। বিশেষ করে ধর্মীয় আবেগ ও জনস্রোতের সামনে প্রশাসনিক কড়াকড়ি অনেক সময় ভেঙে পড়ে, এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।

তাহেরীর মতে, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণেই সকল বাধা উপেক্ষা করে মাহফিলটি সফল হয়েছে। একই সঙ্গে তার বক্তব্যে একটি চ্যালেঞ্জিং সুরও লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইঙ্গিত দেন, তাকে থামানোর চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

সবশেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই মাহফিলে তাহেরী অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
৫১৭ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে তাহেরীর মাহফিল, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চলবে না’ বক্তব্যে উত্তাপ

আপডেট সময় ১০:১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
46

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ইসলামি মাহফিল করেছেন আলোচিত বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৫টায় শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত মাহফিলে তিনি বলেন, “কোন ইঞ্জিনিয়ারিং চলবে না। ইঞ্জিনিয়ারিং করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মাহফিল বন্ধ করা যাবে না।”

শিমুলঘর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামি সুন্নী মহা সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরজাদা আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক আল হোসাইনি এবং পীরে তরীকত আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি মোস্তাক আহমেদ ক্বাদেরী আল ওয়ায়েসী।

মাহফিলে তাহেরী বলেন, “নবী প্রেমিকদের কেউ বাধা দিয়ে আটকাতে পারে না। যারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে সুন্নীয়দের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করেছে তারা নবী প্রেমিক হতে পারে না, তারা মুনাফেক।”

এর আগে “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে একই দিনে আরেকটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। তবে উক্ত পোস্টারে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২৭ মার্চ (শুক্রবার) মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে শিমুলঘর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, “নাটকীয় পরিস্থিতি” তৈরি করেই প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে, মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন, একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে মাহফিল বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়।

এদিকে, ১৪৪ ধারা জারির পরও মাহফিল সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিপুল জনসমাগমে মাহফিল সফল হওয়ায় তাহেরী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চলবে না’ মন্তব্যটি করেন।

তার বক্তব্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলতে তিনি মূলত পরিকল্পিত কৌশল বা বাধা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে বোঝাতে চেয়েছেন, যা বাস্তবে সবসময় কার্যকর হয় না। বিশেষ করে ধর্মীয় আবেগ ও জনস্রোতের সামনে প্রশাসনিক কড়াকড়ি অনেক সময় ভেঙে পড়ে, এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।

তাহেরীর মতে, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণেই সকল বাধা উপেক্ষা করে মাহফিলটি সফল হয়েছে। একই সঙ্গে তার বক্তব্যে একটি চ্যালেঞ্জিং সুরও লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইঙ্গিত দেন, তাকে থামানোর চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

সবশেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই মাহফিলে তাহেরী অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।