ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিশোধ নিতেই শিশু মাওয়াকে হত্যা করে তোতা মিয়া, আদালতে স্বীকারোক্তি

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
14

খুলনার লবনচরা থানার আলোচিত জান্নাতুল মাওয়া হত্যা মামলার দায় স্বীকার করেছে অভিযুক্ত তোতা মিয়া। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট – ১ এর বিচারক মো: আসাদুর জামান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

তোতা মিয়া ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পটুয়াখালী এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী ব্যাপারির ছেলে। বুধবার গভীর রাতে ঢাকার গাজীপুর কাপাসিয়া এলাকার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। লবনচরা এলাকার ক্ষুদ্ধ মানুষ তার আদালতে উপস্থিতির খবর পেয়ে আদালত চত্বরে ভীড় করতে থাকে। আসামিকে জনতার হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বিচারকের খাস কামরার সামনে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিতে থাকে তারা। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুর জামান খাস কামরা থেকে বের হয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ভিকটিম মাওয়ার বাবা মো: শাহজালালের দু:সম্পর্কের আত্মীয়া তোতা মিয়া।

১৯৯৭ সালে প্রথম স্ত্রী শাহিনুর আক্তার মুন্নিকে হত্যার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। ১৯ বছর ২২ দিন জেল খেটে ২০২০ সালের জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে। তিনি আরো জানান, ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়ার পরিবারের সহায়তায় টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামাদ শেখের মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করে। এরপর তোতা মিয়া কিছুদিনের জন্য পাশের দেশ ভারতে গিয়ে অবস্থান করে। ঔই সময় তার অনুপস্থিতিতে দ্ধিতীয় স্ত্রী ময়না তাকে ডিভোর্স দেয়। বিষয়টি সে ভালোভাবে নেয়নি। সে ধারনা করতে থাকে, ডিভোর্সের পেছনে মাওয়ার পরিবারের হাত রয়েছে। তাই দ্ধিতীয় স্ত্রী ও ভিকটিম মাওয়ার পরিবারকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পরিকল্পনা করতে থাকে। তিনি বলেন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৩ মার্চ দুপুরে মাওয়ার মামার বিয়েতে লবনচরা থানাধীন সাচিবুনিয়া স্লুইস গেটে বেড়াতে আসে। ঔই দিন দুপুর ১ টা ৫০ মিনিটের আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে তাকে স্লুইস গেটে নিয়ে যায়।

মাওয়াকে দীর্ঘক্ষন না দেখে মা তোতা মিয়াকে ফোন দেয়। সে অপরদিক থেকে জানায়, তারা স্লুইস গেট এলাকায় অবস্থান করছে। এমন খবর পেয়ে মাওয়ার পরিবার সেখানে গিয়ে খোজ না পেয়ে পুনরায় ফোন দিলে তোতা মিয়ার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করা হয়। হত্যার আগে মাওয়াকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তোতা মিয়া।

মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষন পর একটি দড়ি দিয়ে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করে। ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে তোতা মিয়ার ব্যবহ্নত মোবাইল ফোন দিয়ে ভিকটিমের বাবার ইমোতে ভয়েজ ম্যাসেজ পাঠিয়ে জানানো হয়, হরিনটানা গেটের বামপাশে মাওয়ার মরদেহ পাবি। বিষয়টি লবনচরা থানাকে জানানো হলে পুলিশ হরিনটানা থানার বিপরীত পাশের খেজুরের ভিটার বাগান থেকে মাওয়ার মরদেহ, পায়ের জুতা এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহ্নত দড়ি উদ্ধার করে।

পরে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশের পাশাপাশি খুলনা পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ট্রাক করে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার গোঁসাইয়েরগাও এলাকার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর সে হত্যাকান্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় পুলিশেকে। পরবর্তীতে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুর সোয়া ২ টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকাল ৫ টা ২৩ মিনিটে জবানবন্দি শেষ হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

প্রতিশোধ নিতেই শিশু মাওয়াকে হত্যা করে তোতা মিয়া, আদালতে স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় ১০:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
14

খুলনার লবনচরা থানার আলোচিত জান্নাতুল মাওয়া হত্যা মামলার দায় স্বীকার করেছে অভিযুক্ত তোতা মিয়া। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট – ১ এর বিচারক মো: আসাদুর জামান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

তোতা মিয়া ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পটুয়াখালী এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী ব্যাপারির ছেলে। বুধবার গভীর রাতে ঢাকার গাজীপুর কাপাসিয়া এলাকার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। লবনচরা এলাকার ক্ষুদ্ধ মানুষ তার আদালতে উপস্থিতির খবর পেয়ে আদালত চত্বরে ভীড় করতে থাকে। আসামিকে জনতার হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বিচারকের খাস কামরার সামনে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিতে থাকে তারা। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুর জামান খাস কামরা থেকে বের হয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ভিকটিম মাওয়ার বাবা মো: শাহজালালের দু:সম্পর্কের আত্মীয়া তোতা মিয়া।

১৯৯৭ সালে প্রথম স্ত্রী শাহিনুর আক্তার মুন্নিকে হত্যার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। ১৯ বছর ২২ দিন জেল খেটে ২০২০ সালের জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে। তিনি আরো জানান, ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়ার পরিবারের সহায়তায় টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামাদ শেখের মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করে। এরপর তোতা মিয়া কিছুদিনের জন্য পাশের দেশ ভারতে গিয়ে অবস্থান করে। ঔই সময় তার অনুপস্থিতিতে দ্ধিতীয় স্ত্রী ময়না তাকে ডিভোর্স দেয়। বিষয়টি সে ভালোভাবে নেয়নি। সে ধারনা করতে থাকে, ডিভোর্সের পেছনে মাওয়ার পরিবারের হাত রয়েছে। তাই দ্ধিতীয় স্ত্রী ও ভিকটিম মাওয়ার পরিবারকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পরিকল্পনা করতে থাকে। তিনি বলেন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৩ মার্চ দুপুরে মাওয়ার মামার বিয়েতে লবনচরা থানাধীন সাচিবুনিয়া স্লুইস গেটে বেড়াতে আসে। ঔই দিন দুপুর ১ টা ৫০ মিনিটের আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে তাকে স্লুইস গেটে নিয়ে যায়।

মাওয়াকে দীর্ঘক্ষন না দেখে মা তোতা মিয়াকে ফোন দেয়। সে অপরদিক থেকে জানায়, তারা স্লুইস গেট এলাকায় অবস্থান করছে। এমন খবর পেয়ে মাওয়ার পরিবার সেখানে গিয়ে খোজ না পেয়ে পুনরায় ফোন দিলে তোতা মিয়ার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করা হয়। হত্যার আগে মাওয়াকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তোতা মিয়া।

মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষন পর একটি দড়ি দিয়ে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করে। ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে তোতা মিয়ার ব্যবহ্নত মোবাইল ফোন দিয়ে ভিকটিমের বাবার ইমোতে ভয়েজ ম্যাসেজ পাঠিয়ে জানানো হয়, হরিনটানা গেটের বামপাশে মাওয়ার মরদেহ পাবি। বিষয়টি লবনচরা থানাকে জানানো হলে পুলিশ হরিনটানা থানার বিপরীত পাশের খেজুরের ভিটার বাগান থেকে মাওয়ার মরদেহ, পায়ের জুতা এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহ্নত দড়ি উদ্ধার করে।

পরে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশের পাশাপাশি খুলনা পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ট্রাক করে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার গোঁসাইয়েরগাও এলাকার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর সে হত্যাকান্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় পুলিশেকে। পরবর্তীতে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুর সোয়া ২ টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকাল ৫ টা ২৩ মিনিটে জবানবন্দি শেষ হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।