ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনায় পাম্পগুলো থেকে মোটরযানে মিলছে না তেল, ড্রামে যাচ্ছে খোলা বাজারে, পাম্প গুলোতে ভিড়

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
2

খুলনায় পাম্প গুলো যখন জালানী তেল শুন্য ঠিক তখনই রাতের আধারে চলছে অবৈধভাবে তেল বিক্রির হিড়িক। বন্ধ ফিলিং স্টেশন থেকে ড্রাম ভর্তি তেল কেউ নিচ্ছেন ভ্যানে আবার কেউ নিচ্ছেন ইজিবাইকে করে। আর এসব তেল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে এমন অভিযোগ উঠেছে খুলনার প্রান কেন্দ্র পাওয়ার হাউজ মোড়ের মেসার্স কেসিসি পেট্রোলিয়াম পাম্পের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে গত কয়েকদিন খুলনা সহ সারাদেশে জালানী তেলের তিব্র সংকট দেখা দেয়৷ ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়াল দিয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

তেল সংকটে যানবাহন চলাচল ও বন্ধের উপক্রম। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে গ্রাহকদের তেল দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করে। এই প্রক্রিয়ায় তেল নিতে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ভিড় করছে বিভিন্ন পাম্পে। কিন্তু কিছুক্ষন দেওয়ার পর শেষ হয়েগেছে জানিয়ে গ্রাহকদের তেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কেসিসি পেট্রোলিয়াম পাম্পের দুপাশের প্রবেশ পথে ঠেলাগাড়ি ও বাশদিয়ে বন্ধ করে রেখে একটি ভ্যানে দুটি ড্রামে চারশ লিটার ডিজেল বিক্রি করা হয়।

খবর পেয়ে সংবাদকর্মী ভিডিও ধারন করতে গেলে স্টেশন সুপার ভাইজার মুজিবর রহমান ও তার সহযোগীরা ধেয়ে এসে মারমুখী আচরন করে। এসময় তিনি বলেন, এরা আমাদের নিয়মিত ক্রেতা। আমাদের এরকম কিছু ক্রেতা ধরা আছে। মোটরসাইকেল ও যানবাহনে তেল বিক্রি করার পাশাপাশি আমরা বাহিরেও বিক্রি করি। অফিস থেকে অনুমতি আছে। আপনি অনুসন্ধান করেন। ক্রেতা ইমরুল জানায়, এই তেল এসবিএম ইট ভাটার বিভিন্ন যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

বিগত এক থেকে দেড় বছর যাবৎ এ পাম্প থেকে তেল নিচ্ছি। মুল্য পরিশোধ সরাসরি ভাটার মালিক বাসির মোল্লা করে থাকেন। এদিকে খুলনায় পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল সহ ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তাদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। হঠ্যাৎ তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরোও জটিল হয়ে উঠেছে ও ভোগান্তি বেড়েছে। গতকাল বুধবার নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়, নিউমার্কেট এলাকার পেট্রোল পাম্প, জয় বাংলা মোড়ের মেসার্স মারিয়া এন্টারপ্রাইজ ও খালিশপুর নতুনরাস্তা মোড়ের এলেনা ফিলিং স্টেশন, ফুলবাড়িগেট, বাদামতলা স্টেশন গুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

সন্ধ্যা হলেই স্টেশনের মেশিন গুলোতে লেখা থাকে তেল নেই। তাই প্রয়োজনে তেল শেষ হওয়ার আগে মানুষ সকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করতে থাকে। কেসিসি পেট্রোলিয়ামে তেল নিতে আসা হান্নান জানান, ঈদের ছুটিতে খুলনায় এসেছেন, একঘন্টা সময় দাড়িয়ে তিনি তেল পেয়েছেন। রেশনিং পদ্ধতিতে ৫০০ টাকার তেল দিয়েছে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা। বেশি দেওয়ার কথা জানালে তারা আর দেয়নি। জানতে চাইলে প্রতিত্তোরে তারা জানান, এর বেশি দেওয়া সম্ভব নয়। ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা আবদুস সবুর জানান, মোটরসাইকেলে একঘন্টা চলার মতো তেল ছিল।

অসুবিধায় পড়ার আগে তেল নিতে আসা এখানে। কিন্তু দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদা অনুযায়ী তেল পেলাম না। কেসিসি পেট্রোলিয়ামের সুপার ভাইজার মুজিবর রহমান বলেন, আগের চাহিদার তুলনায় জালানী তেল কম পাচ্ছি। একদিন অন্তর আমরা ৯ হাজার লিটার তেল পাচ্ছি। কোম্পানি আজ দিয়েছে ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার লিটার অকটেন। ডিজেল ৩ হাজার লিটার নেওয়া হয়েছে বাকি ৩ হাজার লিটার পদ্মা ডিপোতে রেখে এসেছি। তিনি বলেন, খুলনা বিভাগে যতগুলো পাম্প আছে ততগুলো রেশনিং সিস্টেমে দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আমরা গ্রাহকে তেল দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গ্রাহকদের আমরা চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না। বহি:বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেল পর্যাপ্ত সরবরাহ না হওয়ার কারনে মুলত জালানী তেল সংকট। কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে আমরা তেল কম পাচ্ছি।

কেসিসির পেট্রোলিয়ামের সামনে ভিড় হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব জায়গায় পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না কোম্পানি গুলো। যে পাম্পে মানুষ তেল পাচ্ছে, সেখানে ভিড় জমাচ্ছে। মুঠো ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা এখানে হাজির হচ্ছেন। তাছাড়া চাহিদামত তেল না পেয়ে একই ব্যক্তি রাস্তা পার হয়ে একাধিকবার তেল নিতে আসছেন। ভিড়ের মধ্যে তাদের না চেনার কারনে এ সুবিধা তারা গ্রহণ করে অন্যদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন।

মোটরসাইকেল আরোহী সিহাব জানান, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। জিতু বলেন, ফুলবাড়িগেট নগর ফিলিং স্টেশনে চাহিদা মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে এ সংবাদ শুনে এখানে তেল নিতে এসেছি। স্টেশন ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান বলেন, অনেকদিন হলো ডিপো থেকে আমরা চাহিদা মত তেল পাচ্ছি না। ডিপো গুলো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে আমাদের তেল দিচ্ছে।

২৬ মার্চ সরকারি ছুটি এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি এই দুই দিন ডিপো বন্ধ থাকবে। দুই দিনের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের তেলের যে চাহিদা ছিল, সে অনুযায়ী তেল পায়নি। আজ বুধবার এবং আগামী দুইদিনের জন্য আমরা ৯ হাজার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৩ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তেল সরবরাহ করছি।

মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ আড়াইশ টাকা, প্রাইভেট কারের জন্য পনেরশ টাকার তেল, দুরপাল্লার গাড়ির জন্য চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করা হচ্ছে। জনসাধারণের ভীতর প্যানিক আছে, কিন্তু বাস্তবে তেলের কোন সংকট নেই। নগরীর বাদামতলা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হোসেন আহমেদ বলেন, মাসখানেক থেকে চাহিদামত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগের থেকে এখন চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। আগে প্রতিদিন যে চাহিদা ছিল তার পাচ ভাগের একভাগ চাহিদা বেড়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
৫০১ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় পাম্পগুলো থেকে মোটরযানে মিলছে না তেল, ড্রামে যাচ্ছে খোলা বাজারে, পাম্প গুলোতে ভিড়

আপডেট সময় ১০:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
2

খুলনায় পাম্প গুলো যখন জালানী তেল শুন্য ঠিক তখনই রাতের আধারে চলছে অবৈধভাবে তেল বিক্রির হিড়িক। বন্ধ ফিলিং স্টেশন থেকে ড্রাম ভর্তি তেল কেউ নিচ্ছেন ভ্যানে আবার কেউ নিচ্ছেন ইজিবাইকে করে। আর এসব তেল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে এমন অভিযোগ উঠেছে খুলনার প্রান কেন্দ্র পাওয়ার হাউজ মোড়ের মেসার্স কেসিসি পেট্রোলিয়াম পাম্পের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে গত কয়েকদিন খুলনা সহ সারাদেশে জালানী তেলের তিব্র সংকট দেখা দেয়৷ ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়াল দিয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

তেল সংকটে যানবাহন চলাচল ও বন্ধের উপক্রম। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে গ্রাহকদের তেল দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করে। এই প্রক্রিয়ায় তেল নিতে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ভিড় করছে বিভিন্ন পাম্পে। কিন্তু কিছুক্ষন দেওয়ার পর শেষ হয়েগেছে জানিয়ে গ্রাহকদের তেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কেসিসি পেট্রোলিয়াম পাম্পের দুপাশের প্রবেশ পথে ঠেলাগাড়ি ও বাশদিয়ে বন্ধ করে রেখে একটি ভ্যানে দুটি ড্রামে চারশ লিটার ডিজেল বিক্রি করা হয়।

খবর পেয়ে সংবাদকর্মী ভিডিও ধারন করতে গেলে স্টেশন সুপার ভাইজার মুজিবর রহমান ও তার সহযোগীরা ধেয়ে এসে মারমুখী আচরন করে। এসময় তিনি বলেন, এরা আমাদের নিয়মিত ক্রেতা। আমাদের এরকম কিছু ক্রেতা ধরা আছে। মোটরসাইকেল ও যানবাহনে তেল বিক্রি করার পাশাপাশি আমরা বাহিরেও বিক্রি করি। অফিস থেকে অনুমতি আছে। আপনি অনুসন্ধান করেন। ক্রেতা ইমরুল জানায়, এই তেল এসবিএম ইট ভাটার বিভিন্ন যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

বিগত এক থেকে দেড় বছর যাবৎ এ পাম্প থেকে তেল নিচ্ছি। মুল্য পরিশোধ সরাসরি ভাটার মালিক বাসির মোল্লা করে থাকেন। এদিকে খুলনায় পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল সহ ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তাদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। হঠ্যাৎ তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরোও জটিল হয়ে উঠেছে ও ভোগান্তি বেড়েছে। গতকাল বুধবার নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়, নিউমার্কেট এলাকার পেট্রোল পাম্প, জয় বাংলা মোড়ের মেসার্স মারিয়া এন্টারপ্রাইজ ও খালিশপুর নতুনরাস্তা মোড়ের এলেনা ফিলিং স্টেশন, ফুলবাড়িগেট, বাদামতলা স্টেশন গুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

সন্ধ্যা হলেই স্টেশনের মেশিন গুলোতে লেখা থাকে তেল নেই। তাই প্রয়োজনে তেল শেষ হওয়ার আগে মানুষ সকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করতে থাকে। কেসিসি পেট্রোলিয়ামে তেল নিতে আসা হান্নান জানান, ঈদের ছুটিতে খুলনায় এসেছেন, একঘন্টা সময় দাড়িয়ে তিনি তেল পেয়েছেন। রেশনিং পদ্ধতিতে ৫০০ টাকার তেল দিয়েছে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা। বেশি দেওয়ার কথা জানালে তারা আর দেয়নি। জানতে চাইলে প্রতিত্তোরে তারা জানান, এর বেশি দেওয়া সম্ভব নয়। ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা আবদুস সবুর জানান, মোটরসাইকেলে একঘন্টা চলার মতো তেল ছিল।

অসুবিধায় পড়ার আগে তেল নিতে আসা এখানে। কিন্তু দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদা অনুযায়ী তেল পেলাম না। কেসিসি পেট্রোলিয়ামের সুপার ভাইজার মুজিবর রহমান বলেন, আগের চাহিদার তুলনায় জালানী তেল কম পাচ্ছি। একদিন অন্তর আমরা ৯ হাজার লিটার তেল পাচ্ছি। কোম্পানি আজ দিয়েছে ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার লিটার অকটেন। ডিজেল ৩ হাজার লিটার নেওয়া হয়েছে বাকি ৩ হাজার লিটার পদ্মা ডিপোতে রেখে এসেছি। তিনি বলেন, খুলনা বিভাগে যতগুলো পাম্প আছে ততগুলো রেশনিং সিস্টেমে দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আমরা গ্রাহকে তেল দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গ্রাহকদের আমরা চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না। বহি:বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেল পর্যাপ্ত সরবরাহ না হওয়ার কারনে মুলত জালানী তেল সংকট। কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে আমরা তেল কম পাচ্ছি।

কেসিসির পেট্রোলিয়ামের সামনে ভিড় হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব জায়গায় পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না কোম্পানি গুলো। যে পাম্পে মানুষ তেল পাচ্ছে, সেখানে ভিড় জমাচ্ছে। মুঠো ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা এখানে হাজির হচ্ছেন। তাছাড়া চাহিদামত তেল না পেয়ে একই ব্যক্তি রাস্তা পার হয়ে একাধিকবার তেল নিতে আসছেন। ভিড়ের মধ্যে তাদের না চেনার কারনে এ সুবিধা তারা গ্রহণ করে অন্যদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন।

মোটরসাইকেল আরোহী সিহাব জানান, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। জিতু বলেন, ফুলবাড়িগেট নগর ফিলিং স্টেশনে চাহিদা মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে এ সংবাদ শুনে এখানে তেল নিতে এসেছি। স্টেশন ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান বলেন, অনেকদিন হলো ডিপো থেকে আমরা চাহিদা মত তেল পাচ্ছি না। ডিপো গুলো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে আমাদের তেল দিচ্ছে।

২৬ মার্চ সরকারি ছুটি এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি এই দুই দিন ডিপো বন্ধ থাকবে। দুই দিনের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের তেলের যে চাহিদা ছিল, সে অনুযায়ী তেল পায়নি। আজ বুধবার এবং আগামী দুইদিনের জন্য আমরা ৯ হাজার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৩ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তেল সরবরাহ করছি।

মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ আড়াইশ টাকা, প্রাইভেট কারের জন্য পনেরশ টাকার তেল, দুরপাল্লার গাড়ির জন্য চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করা হচ্ছে। জনসাধারণের ভীতর প্যানিক আছে, কিন্তু বাস্তবে তেলের কোন সংকট নেই। নগরীর বাদামতলা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হোসেন আহমেদ বলেন, মাসখানেক থেকে চাহিদামত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগের থেকে এখন চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। আগে প্রতিদিন যে চাহিদা ছিল তার পাচ ভাগের একভাগ চাহিদা বেড়েছে।