ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‎’ঈদ’ মানে শুধু খুশি নয়, বরং ‘ঈদ’ একটি ইবাদত

মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)
32

‎মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)

কোরআনু কারীমে এসেছে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী আপনি বলুন, “আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে” (সূরা ইউনুস, ১০:৫৮)। ‘ঈদ’ মানে শুধু খুশি নয়, বরং ‘ঈদ’ একটি ইবাদত ও বটে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের কঠোর সিয়াম- সাধনার মাস মাহে রমজানুল মোবারকের বিদায়লগ্নে এক অনাবিল শান্তি,খুশি ও অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে শাওয়ালের এক ফালি বাকা চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে ওঠে। তখন মুসলিম সহ সর্বশ্রেণির মানুষের হৃদয়-গহিনে বয়ে যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক মৃদু দোলা। যদিও ঈদ মুসলামানদের একটি ধর্মীয় বড় উৎসবগুলোর একটি। মহান দয়ালু আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রোযাদারদের জন্য বিশেষ একটি পুরুস্কার হচ্ছে, ‘ঈদুল ফিতর’। আর এই ঈদের তাৎপর্য অপরিসীম। রমজান মাসের ধারাবাহিক কটোর সিয়াম সাধনার পর মাহে শাওয়ালের পহেলা তারিখে এই দিনটি মহাআনন্দ ও শুকরিয়া আদায় করার দিন হিসেবে পালিত হয়৷

‎ঈদুল ফিতরের পরিচয়:-‘ঈদ’ শব্দটি আরবী ‘আওদ’ বা ‘আউদ’ মূলধাতু থেকে এসেছে, যার শাব্দিক অর্থ হল ফিরে আসা, বারবার ফিরে আসা,খুশি,আনন্দ, উৎসব, আমোদ – প্রমোদ বা খুশির দিন। পারিভাষিক অর্থে ঈদ হল দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনর পর মুসলমানরা যে দিনটি বিশেষ ইবাদত, আনন্দ ও উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করে সেটাই ঈদুল ফিতর। অন্যদিকে বলা যায় ঈদ হলো এমন একটি দিন যা বারবার ফিরে আসে এবং যাতে মানুষ আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করে ঈমানদারদের জীবনে সিয়াম সাধনা ও ত্যাগের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে এই আনন্দ উৎসব ফিরে আসে।

‎ঈদুল ফিতরের মহিমা:-ঈদ বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নেয়ামত। এর মহিমা অপরিসীম। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে দেখতে পেলেন মদিনাবাসী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তারা দুইটি দিবস উদযাপন করে থাকে। নবীজি (দরুদ) তাদের কে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুইটি কীসের দিবস? তারা বলল, এ দুইটি দিবসে জাহেলি যুগে আমরা খেলাধুলা করে উদযাপন করতাম। তখন  তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুইটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। একটি হল, “ঈদুল আজহা” এবং অপরটি হল, “ঈদুল ফিতর”। (সহিহ সুনানে আবু দাউদ। হাদিস নং-৯৫৯)।

‎ইসলামে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য :-রাসূলুল্লাহ ( দরুদ ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পুণ্য লাভের আশায় দু’ ঈদের রাত জেগে ইবাদত করে সেদিন (কিয়ামতের দিন) তার অন্তর এতটুকু ভীত-সন্ত্রস্ত হবে না যেদিন অন্যদের অন্তর ভীত-বিহ্বল অবস্থায় মৃতবৎ হয়ে পড়বে।এই হাদীসটি সহিহ ইবনে মাজাহ (হাদীস নং-১৭৮২) এবং বায়হাক্বীর ‘শোয়াবুল ঈমান’ সহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (দরুদ.) ইরশাদ করেছেন, যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে, তখন আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতাদের কাছে বান্দাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: ‘হে আমার ফেরেশতারা! যে শ্রমিক তার কাজ পূর্ণ করেছে, তার প্রতিদান কী হওয়া উচিত?’ফেরেশতারা বলেন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তার প্রতিদান হলো তাকে পূর্ণ পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া।’ তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন: ‘হে আমার ফেরেশতারা! আমার বান্দা ও বান্দিরা তাদের ওপর অর্পিত ফরজ (রোজা) আদায় করেছে। সিয়াম পালন করেছে। অতঃপর তারা দোয়ায় উচ্চকণ্ঠ হয়ে (ঈদের নামাজের জন্য) বের হয়েছে। আমার ইজ্জত, জলিল (মর্যাদা), করম (উদারতা) এবং আমার উচ্চাসনের কসম! আমি অবশ্যই তাদের দোয়া কবুল করব।’ এরপর আল্লাহ বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন: ‘তোমরা ফিরে যাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহ গুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দিলাম।’ রাসূলুল্লাহ (দরুদ.) বলেন: ‘অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় ঘরে ফিরে যায়। (হাদীসটি ইমাম বাইহাকী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘শুয়াবুল ঈমান’-এ বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থে হাদিসটির নাম্বার-৩৪৪৪) তবে সংস্করণভেদে পরিবর্তন হতে পারে । হাদিসটি ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’ গ্রন্থের ‘নামাজ’ অধ্যায়ের “সালাতুল ঈদাইন” বা দুই ঈদের  নামাজ’ পরিচ্ছেদেও উদ্ধৃত হয়েছে।)

‎আল্লাহর রাসূল (দরুদ) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ; একটি তার ইফতারের সময় এবং অপরটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়” (সুনানে ইবনে মাজাহ।হাদীস নং-১৬৩৮) । রাসূল (দরুদ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পুণ্যময় ৫টি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে সেই ব্যক্তির জন্য সু-সংবাদ রয়েছে, আর সেই সুসংবাদটি হচ্ছে ‘জান্নাত’ এবং পুণ্যময় ৫টি রাত হলো ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, লাইলাতুলকদর, জ্বিলহজ্জের রাত, আরাফাতের রাত । (হাদীসটি শুয়াবুল ঈমানে ইমাম বাইহাকী (রহ:),আল-মুজামুল আওসাতে ইমাম তাবারানী (রহ:), লতায়েফুল মাআরিফে ইবনে রজব হাম্বলী (রহ:), বর্ননা করেছেন। ইমাম বাইহাকী (রহ:) এর
‎শুয়াবুল ঈমান গ্রন্থে হাদীসটির নাম্বার সাধারণত ৩৪৩৮ বা এর কাছাকাছি। তবে সংস্করণ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়াও ঈদের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে ।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব :-হাদীস শরীফে এসেছে,হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) বলেছেন,”হে মুসলমান সম্প্রদায়! দয়াময় প্রভুর দিকে এগিয়ে চলো, যিনি তোমাদের ভালো কাজের তাওফিক দিয়েছেন এবং আজ তোমাদেরকে মহাসম্মানিত পুরস্কার প্রদান করবেন। হাদিসটি ইমাম তাবারানি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘আল-মু’জামুল কবীর’। এটি সাধারণত ৬১৭ (ভলিউম ১) অথবা ৯৭১ নম্বর হিসেবে পরিচিত। ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যারা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবে না তারা অবশ্যই গুনাহগার হবে। ঈদ আসে বিশ্ব মুসলিমের জীবনে বার্ষিক খুশি ও আনন্দের শান্তিময় বার্তা নিয়ে। ঈদ আসে মুসলমানদের পরষ্পরের মাঝে সীমাহীন ঈমানী চেতনা, প্রেম- প্রীতি বিনিময়ের সুযোগ নিয়ে। বিগত দিনের সকল গ্লানি,কষ্ট, ব্যথা আর বেদনা কে ভুলিয়ে দিতে।, কল্যাণ ও শান্তির সওগাত নিয়ে। বছরে শাওয়াল মাসের এই ’দিন ঈদের নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’আলা  মুসলমানদের জন্য অনুগ্রহ বিতরণের যে এক  মহাসম্মেলনের ব্যবস্থা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে পরিবারে, সমাজে, ও রাষ্ট্রে  ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের প্রেরণা। সমাজকে কলুষিত হওয়া হতে ও কালিমা মুক্ত করার জন্য জজবাত, মানবতা ও মনুষ্যত্ব বিকাশের এক বিশেষ অনুশীলনের দিকে  প্রতি বছর বার্তা দিয়ে যায় মহিমান্বিত রমজানুল মোবারকের শেষে  এই ঈদুল ফিতর।

‎ঈদুল ফিতরের ফজিলত:-পবিত্র কোরআনুল কারীমে এসেছে, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা কর (তাকবীর দাও) এবং যাতে তোমরা শোকরকারী হও।” (সূরা আল- বাকারা। আয়াত নং-১৮৫)। পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস রোজা রাখার পর মহান আল্লাহ তা’আলা রোজাদারদের জন্য এই দিনটিকে সিয়াম সাধনার পুরস্কার ও আনন্দের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র রমজানুল মোবারক মাস জুড়ে ইবাদত ও রোজার মাধ্যমে যে আত্মশুদ্ধি অর্জন হয়, ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং তাদের কে পবিত্র করে দেন৷ ঈদের দিনের প্রধান করণীয় হল, ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা যা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে গরিব-দুঃখীদেরও আনন্দের অংশীদার করা হয়, যা সমাজে গরীবদের সচ্ছলতা ও  মুসলমানদের পারষ্পরিক সহানুভূতি বাড়িয়ে দেয়৷ ঈদুল ফিতর শুধুমাত্র খাওয়া – দাওয়ার দিবস নয়, বরং এটি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ করা ও আল্লাহর স্মরণ করার দিন। ঈদুল ফিতরের দিন মুসলমানেরা নিজেদের সকল প্রকার হিংসা, হানা-হানি, শত্রুতা ভুলে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সাথে প্রীতি ও ভালোবাসা বিনিময় করে থাকে এই দিনে

‎ঈদুল ফিতরের সুন্নাত আমল :-পবিত্র কোরআনুল কারীমে এসেছে, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে পবিত্র হয় এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে এবং সালাত আদায় করে।” (সূরা আ’লা, ৮৭:১৪-১৫)। ঈদের দিন পরিষ্কার পরিচ্চন্ন হওয়া, মিসওয়াক করা, গোসল করা সুন্নাত। আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। সাজ সকালে ইদগাহে গমন করা সুন্নাত। সুন্দর ও উত্তম কাপড় পরিধান করা সুন্নাত।ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য ঈদগাহে বা মসজিদে যাওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খাওয়া বা কোন মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া সুন্নাত। (সহিহ বুখারী শরীফ। হাদীস নং -৮৯৯)। ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া এবং আসার সময় ভিন্ন পথে আসা সুন্নাত।(সহিহ বুখারী শরীফ।হাদীস নং-৯২৯)। ঈদের নামাযের জন্য পায়ে হেঁটে যাতায়াত করা সুন্নাত। (সহিহ ইবনে মাজা শরীফ। হাদীস নং- ১০৭১)। ঈদগাহে আসা-যাওয়ার সময় তাকবীর বলা সুন্নাত। তাকবীর  ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলে ঈদের মোবারকবাদ প্রদান করা সুন্নাত। ঈদের নামায ঈদের নামায বসবাসের বাইরে খোলা মাঠে ঈদগাহে পড়া সুন্নাত। (সহিহ মুসলিম শরীফ। হাদীস নং- ১৯২৬)। ঈদের নামাযের জন্য মহিলারা ও ঈদগাহে আসতে পারে। (সহিহ মুসলিম শরীফ। হাদীস নং-১৯২৬)। (ফিতনা মুক্ত হতে আলাদা জায়গা ও পর্দা বজায় রাখতে হবে।) ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাত।হযরত জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা:) বর্ণিত, তিনি বলেন -নবীজী (দরুদ)- এর সাহাবোয়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিন কুম’ অর্থাৎ আল্লাহ আমার ও আপনার যাবতীয় ভাল কাজ কবুল করুক। (ফাতহুল ক্বাদির, ২খন্ড, ৫১৭)।

‎সদক্বাতুল ফিতর আদায় করা:-ঈদের আনন্দকে পরিশুদ্ধ করার জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আনন্দ দান করার জন্য ইসলাম ধনীদের ওপর ওয়াজিব করেছে সদকাতুল ফিতর। সদকায়ে ফিতরের অন্তর্নিহিত রহস্য ও তাৎপর্য হল, ঈদের আনন্দে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও শামিল করে নেয়া। আরো একটি রহস্য হচ্ছে, সদকাতুল ফিতর রোজার জাকাতস্বরূপ। জাকাত যেমনি সম্পদকে পরিশুদ্ধ করে তেমনি সদকাতুল ফিতর রোজাকে শুদ্ধতা দান করে। রোজার ক্রটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ করে। ফিতরা ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সুবহে সাদেক থেকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,”রাসূলুল্লাহ (সা.) সাদাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন,অশ্লীল কথা ও বেহুদা কাজ হতে (রমজানের) সওমকে পবিত্র করতে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য। যে ব্যক্তি (ঈদের) সালাতের পূর্বে তা আদায় করে সেটি কবুল যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে আদায় করে, তা সাধারণ দান (সদকা) হিসেবে গণ্য হবে”। (হাদিসটি সুনান আবূ দাউদ শরীফের ১৬০৯ নাম্বার হাদিস।) (হাদীসটি সুনান ইবনে মাজাহ-তেও বর্ণিত হয়েছে হাদীস নাম্বার: ১৮২৭)।

‎শেষকথাঃ-মহান দয়ালু ও মেহেরবান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে মুমিন-মুসলমানের জন্য দয়া, অনুগ্রহ ও পুরুষ্কার বিতরণের দিন হল ঈদুল ফিতর। তাই, ঈদের দিনে আনন্দ-বিনোদনের নামে কেউ যেন ইসলামী শরিয়ত পরিপন্থী কাজে লিপ্ত না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে সবার।পরিশেষে বলতে হয়, বছর পরপর  ঈদ আসে ঈদ যায়, মানবতার কল্যাণ কামনায়, শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় অর্জিত আত্মোন্নতির মাধ্যমে সারাবছর যেন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আত্মীয় -স্বজন, পাড়া-পড়শী, ও গরীব-দুঃখীদের খুঁজ-খবর নেওয়া সহ তাদের সাথে ঈদের মত সব সময় সুখ, দূঃখ, আনন্দ ও হাসি-কান্না যেন ভাগাভাগি করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়,
‎”ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, ও তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন; আসমানি তাকিদ”। “তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ, দে জাকাত মুর্দা মুসলিমে আজ ভাঙাইতে নিদ” ।

 

লেখক:

মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)।

সাংবাদিক, লেখক, ইসলামিক গবেষক।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
৫১১ বার পড়া হয়েছে

‎’ঈদ’ মানে শুধু খুশি নয়, বরং ‘ঈদ’ একটি ইবাদত

আপডেট সময় ০৯:০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
32

‎মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)

কোরআনু কারীমে এসেছে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী আপনি বলুন, “আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে” (সূরা ইউনুস, ১০:৫৮)। ‘ঈদ’ মানে শুধু খুশি নয়, বরং ‘ঈদ’ একটি ইবাদত ও বটে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের কঠোর সিয়াম- সাধনার মাস মাহে রমজানুল মোবারকের বিদায়লগ্নে এক অনাবিল শান্তি,খুশি ও অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে শাওয়ালের এক ফালি বাকা চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে ওঠে। তখন মুসলিম সহ সর্বশ্রেণির মানুষের হৃদয়-গহিনে বয়ে যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক মৃদু দোলা। যদিও ঈদ মুসলামানদের একটি ধর্মীয় বড় উৎসবগুলোর একটি। মহান দয়ালু আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রোযাদারদের জন্য বিশেষ একটি পুরুস্কার হচ্ছে, ‘ঈদুল ফিতর’। আর এই ঈদের তাৎপর্য অপরিসীম। রমজান মাসের ধারাবাহিক কটোর সিয়াম সাধনার পর মাহে শাওয়ালের পহেলা তারিখে এই দিনটি মহাআনন্দ ও শুকরিয়া আদায় করার দিন হিসেবে পালিত হয়৷

‎ঈদুল ফিতরের পরিচয়:-‘ঈদ’ শব্দটি আরবী ‘আওদ’ বা ‘আউদ’ মূলধাতু থেকে এসেছে, যার শাব্দিক অর্থ হল ফিরে আসা, বারবার ফিরে আসা,খুশি,আনন্দ, উৎসব, আমোদ – প্রমোদ বা খুশির দিন। পারিভাষিক অর্থে ঈদ হল দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনর পর মুসলমানরা যে দিনটি বিশেষ ইবাদত, আনন্দ ও উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করে সেটাই ঈদুল ফিতর। অন্যদিকে বলা যায় ঈদ হলো এমন একটি দিন যা বারবার ফিরে আসে এবং যাতে মানুষ আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করে ঈমানদারদের জীবনে সিয়াম সাধনা ও ত্যাগের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে এই আনন্দ উৎসব ফিরে আসে।

‎ঈদুল ফিতরের মহিমা:-ঈদ বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নেয়ামত। এর মহিমা অপরিসীম। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে দেখতে পেলেন মদিনাবাসী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তারা দুইটি দিবস উদযাপন করে থাকে। নবীজি (দরুদ) তাদের কে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুইটি কীসের দিবস? তারা বলল, এ দুইটি দিবসে জাহেলি যুগে আমরা খেলাধুলা করে উদযাপন করতাম। তখন  তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুইটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। একটি হল, “ঈদুল আজহা” এবং অপরটি হল, “ঈদুল ফিতর”। (সহিহ সুনানে আবু দাউদ। হাদিস নং-৯৫৯)।

‎ইসলামে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য :-রাসূলুল্লাহ ( দরুদ ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পুণ্য লাভের আশায় দু’ ঈদের রাত জেগে ইবাদত করে সেদিন (কিয়ামতের দিন) তার অন্তর এতটুকু ভীত-সন্ত্রস্ত হবে না যেদিন অন্যদের অন্তর ভীত-বিহ্বল অবস্থায় মৃতবৎ হয়ে পড়বে।এই হাদীসটি সহিহ ইবনে মাজাহ (হাদীস নং-১৭৮২) এবং বায়হাক্বীর ‘শোয়াবুল ঈমান’ সহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (দরুদ.) ইরশাদ করেছেন, যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে, তখন আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতাদের কাছে বান্দাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: ‘হে আমার ফেরেশতারা! যে শ্রমিক তার কাজ পূর্ণ করেছে, তার প্রতিদান কী হওয়া উচিত?’ফেরেশতারা বলেন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তার প্রতিদান হলো তাকে পূর্ণ পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া।’ তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন: ‘হে আমার ফেরেশতারা! আমার বান্দা ও বান্দিরা তাদের ওপর অর্পিত ফরজ (রোজা) আদায় করেছে। সিয়াম পালন করেছে। অতঃপর তারা দোয়ায় উচ্চকণ্ঠ হয়ে (ঈদের নামাজের জন্য) বের হয়েছে। আমার ইজ্জত, জলিল (মর্যাদা), করম (উদারতা) এবং আমার উচ্চাসনের কসম! আমি অবশ্যই তাদের দোয়া কবুল করব।’ এরপর আল্লাহ বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন: ‘তোমরা ফিরে যাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহ গুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দিলাম।’ রাসূলুল্লাহ (দরুদ.) বলেন: ‘অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় ঘরে ফিরে যায়। (হাদীসটি ইমাম বাইহাকী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘শুয়াবুল ঈমান’-এ বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থে হাদিসটির নাম্বার-৩৪৪৪) তবে সংস্করণভেদে পরিবর্তন হতে পারে । হাদিসটি ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’ গ্রন্থের ‘নামাজ’ অধ্যায়ের “সালাতুল ঈদাইন” বা দুই ঈদের  নামাজ’ পরিচ্ছেদেও উদ্ধৃত হয়েছে।)

‎আল্লাহর রাসূল (দরুদ) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ; একটি তার ইফতারের সময় এবং অপরটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়” (সুনানে ইবনে মাজাহ।হাদীস নং-১৬৩৮) । রাসূল (দরুদ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পুণ্যময় ৫টি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে সেই ব্যক্তির জন্য সু-সংবাদ রয়েছে, আর সেই সুসংবাদটি হচ্ছে ‘জান্নাত’ এবং পুণ্যময় ৫টি রাত হলো ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, লাইলাতুলকদর, জ্বিলহজ্জের রাত, আরাফাতের রাত । (হাদীসটি শুয়াবুল ঈমানে ইমাম বাইহাকী (রহ:),আল-মুজামুল আওসাতে ইমাম তাবারানী (রহ:), লতায়েফুল মাআরিফে ইবনে রজব হাম্বলী (রহ:), বর্ননা করেছেন। ইমাম বাইহাকী (রহ:) এর
‎শুয়াবুল ঈমান গ্রন্থে হাদীসটির নাম্বার সাধারণত ৩৪৩৮ বা এর কাছাকাছি। তবে সংস্করণ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়াও ঈদের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে ।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব :-হাদীস শরীফে এসেছে,হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) বলেছেন,”হে মুসলমান সম্প্রদায়! দয়াময় প্রভুর দিকে এগিয়ে চলো, যিনি তোমাদের ভালো কাজের তাওফিক দিয়েছেন এবং আজ তোমাদেরকে মহাসম্মানিত পুরস্কার প্রদান করবেন। হাদিসটি ইমাম তাবারানি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘আল-মু’জামুল কবীর’। এটি সাধারণত ৬১৭ (ভলিউম ১) অথবা ৯৭১ নম্বর হিসেবে পরিচিত। ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যারা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবে না তারা অবশ্যই গুনাহগার হবে। ঈদ আসে বিশ্ব মুসলিমের জীবনে বার্ষিক খুশি ও আনন্দের শান্তিময় বার্তা নিয়ে। ঈদ আসে মুসলমানদের পরষ্পরের মাঝে সীমাহীন ঈমানী চেতনা, প্রেম- প্রীতি বিনিময়ের সুযোগ নিয়ে। বিগত দিনের সকল গ্লানি,কষ্ট, ব্যথা আর বেদনা কে ভুলিয়ে দিতে।, কল্যাণ ও শান্তির সওগাত নিয়ে। বছরে শাওয়াল মাসের এই ’দিন ঈদের নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’আলা  মুসলমানদের জন্য অনুগ্রহ বিতরণের যে এক  মহাসম্মেলনের ব্যবস্থা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে পরিবারে, সমাজে, ও রাষ্ট্রে  ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের প্রেরণা। সমাজকে কলুষিত হওয়া হতে ও কালিমা মুক্ত করার জন্য জজবাত, মানবতা ও মনুষ্যত্ব বিকাশের এক বিশেষ অনুশীলনের দিকে  প্রতি বছর বার্তা দিয়ে যায় মহিমান্বিত রমজানুল মোবারকের শেষে  এই ঈদুল ফিতর।

‎ঈদুল ফিতরের ফজিলত:-পবিত্র কোরআনুল কারীমে এসেছে, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা কর (তাকবীর দাও) এবং যাতে তোমরা শোকরকারী হও।” (সূরা আল- বাকারা। আয়াত নং-১৮৫)। পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস রোজা রাখার পর মহান আল্লাহ তা’আলা রোজাদারদের জন্য এই দিনটিকে সিয়াম সাধনার পুরস্কার ও আনন্দের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র রমজানুল মোবারক মাস জুড়ে ইবাদত ও রোজার মাধ্যমে যে আত্মশুদ্ধি অর্জন হয়, ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং তাদের কে পবিত্র করে দেন৷ ঈদের দিনের প্রধান করণীয় হল, ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা যা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে গরিব-দুঃখীদেরও আনন্দের অংশীদার করা হয়, যা সমাজে গরীবদের সচ্ছলতা ও  মুসলমানদের পারষ্পরিক সহানুভূতি বাড়িয়ে দেয়৷ ঈদুল ফিতর শুধুমাত্র খাওয়া – দাওয়ার দিবস নয়, বরং এটি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ করা ও আল্লাহর স্মরণ করার দিন। ঈদুল ফিতরের দিন মুসলমানেরা নিজেদের সকল প্রকার হিংসা, হানা-হানি, শত্রুতা ভুলে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সাথে প্রীতি ও ভালোবাসা বিনিময় করে থাকে এই দিনে

‎ঈদুল ফিতরের সুন্নাত আমল :-পবিত্র কোরআনুল কারীমে এসেছে, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে পবিত্র হয় এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে এবং সালাত আদায় করে।” (সূরা আ’লা, ৮৭:১৪-১৫)। ঈদের দিন পরিষ্কার পরিচ্চন্ন হওয়া, মিসওয়াক করা, গোসল করা সুন্নাত। আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। সাজ সকালে ইদগাহে গমন করা সুন্নাত। সুন্দর ও উত্তম কাপড় পরিধান করা সুন্নাত।ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য ঈদগাহে বা মসজিদে যাওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খাওয়া বা কোন মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া সুন্নাত। (সহিহ বুখারী শরীফ। হাদীস নং -৮৯৯)। ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া এবং আসার সময় ভিন্ন পথে আসা সুন্নাত।(সহিহ বুখারী শরীফ।হাদীস নং-৯২৯)। ঈদের নামাযের জন্য পায়ে হেঁটে যাতায়াত করা সুন্নাত। (সহিহ ইবনে মাজা শরীফ। হাদীস নং- ১০৭১)। ঈদগাহে আসা-যাওয়ার সময় তাকবীর বলা সুন্নাত। তাকবীর  ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলে ঈদের মোবারকবাদ প্রদান করা সুন্নাত। ঈদের নামায ঈদের নামায বসবাসের বাইরে খোলা মাঠে ঈদগাহে পড়া সুন্নাত। (সহিহ মুসলিম শরীফ। হাদীস নং- ১৯২৬)। ঈদের নামাযের জন্য মহিলারা ও ঈদগাহে আসতে পারে। (সহিহ মুসলিম শরীফ। হাদীস নং-১৯২৬)। (ফিতনা মুক্ত হতে আলাদা জায়গা ও পর্দা বজায় রাখতে হবে।) ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাত।হযরত জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা:) বর্ণিত, তিনি বলেন -নবীজী (দরুদ)- এর সাহাবোয়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিন কুম’ অর্থাৎ আল্লাহ আমার ও আপনার যাবতীয় ভাল কাজ কবুল করুক। (ফাতহুল ক্বাদির, ২খন্ড, ৫১৭)।

‎সদক্বাতুল ফিতর আদায় করা:-ঈদের আনন্দকে পরিশুদ্ধ করার জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আনন্দ দান করার জন্য ইসলাম ধনীদের ওপর ওয়াজিব করেছে সদকাতুল ফিতর। সদকায়ে ফিতরের অন্তর্নিহিত রহস্য ও তাৎপর্য হল, ঈদের আনন্দে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও শামিল করে নেয়া। আরো একটি রহস্য হচ্ছে, সদকাতুল ফিতর রোজার জাকাতস্বরূপ। জাকাত যেমনি সম্পদকে পরিশুদ্ধ করে তেমনি সদকাতুল ফিতর রোজাকে শুদ্ধতা দান করে। রোজার ক্রটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ করে। ফিতরা ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সুবহে সাদেক থেকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,”রাসূলুল্লাহ (সা.) সাদাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন,অশ্লীল কথা ও বেহুদা কাজ হতে (রমজানের) সওমকে পবিত্র করতে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য। যে ব্যক্তি (ঈদের) সালাতের পূর্বে তা আদায় করে সেটি কবুল যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে আদায় করে, তা সাধারণ দান (সদকা) হিসেবে গণ্য হবে”। (হাদিসটি সুনান আবূ দাউদ শরীফের ১৬০৯ নাম্বার হাদিস।) (হাদীসটি সুনান ইবনে মাজাহ-তেও বর্ণিত হয়েছে হাদীস নাম্বার: ১৮২৭)।

‎শেষকথাঃ-মহান দয়ালু ও মেহেরবান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে মুমিন-মুসলমানের জন্য দয়া, অনুগ্রহ ও পুরুষ্কার বিতরণের দিন হল ঈদুল ফিতর। তাই, ঈদের দিনে আনন্দ-বিনোদনের নামে কেউ যেন ইসলামী শরিয়ত পরিপন্থী কাজে লিপ্ত না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে সবার।পরিশেষে বলতে হয়, বছর পরপর  ঈদ আসে ঈদ যায়, মানবতার কল্যাণ কামনায়, শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় অর্জিত আত্মোন্নতির মাধ্যমে সারাবছর যেন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আত্মীয় -স্বজন, পাড়া-পড়শী, ও গরীব-দুঃখীদের খুঁজ-খবর নেওয়া সহ তাদের সাথে ঈদের মত সব সময় সুখ, দূঃখ, আনন্দ ও হাসি-কান্না যেন ভাগাভাগি করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়,
‎”ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, ও তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন; আসমানি তাকিদ”। “তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ, দে জাকাত মুর্দা মুসলিমে আজ ভাঙাইতে নিদ” ।

 

লেখক:

মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)।

সাংবাদিক, লেখক, ইসলামিক গবেষক।