ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১০ দফা দাবিতে সুনামগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন এর প্রতিবাদ কর্মসূচি

মোশফিকুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জ::
87

১০ দফা দাবি সহ হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং বর্ধিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচী করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।

সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায়( ১৪ মার্চ ) শনিবার সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার(ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন) এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচীতিতে ১১টি মাঠ পর্যায়ের পর্ববেক্ষণ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহ সভাপতি শাহ কামাল, ১০ টি সুর্নিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচিতে ১১ টি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট এর মধ্যে আছে-
১. পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত ফসলরক্ষা বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন কর্মসূচী দৃশ্যমান ছিলনা। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২. পিআইসি গঠনের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনের গৃহিত গণশুনানী কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিলনা, যার ফলে প্রকৃত অনেক কৃষক পিআইসিতে সম্পৃক্ত হতে পারেননি।

৩. ডিসেম্বর ১৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ, উপজেলা প্রশাসন সমূহ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সারা জেলায় বর্ধিত সময় বৃদ্ধি করেও হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যথাযথ ভাবে সমাপ্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কাজের অগ্রগতি মাঠের সাথে মিল না থাকার কারণে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।

৪. ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সারা জেলায় বেশিরভাগ পিআইসি অক্ষত ছিল। সেখানে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা রাত্রীয় সম্পদ অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে।

৫. পর্যবেক্ষণে দৃশ্যমান পিআইসি ও ক্লোজারগুলোতে বালু মিশ্রিত ও কাঁদাযুক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। সাইনবোর্ডে বরাদ্দকৃত মাটি না ফেলে পুরাতন বাঁধের মাটি মেশিন দিয়ে কুড়ে আবার জায়গার মাটি জায়গায় দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে।

৬. সুনামগঞ্জ জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের ১১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ যথাযথ সম্পন্ন হয়নি।

৭. হাওরের কান্দা, ফসলিজনি ও জমির উপরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের নামে হাওরে সরকারি খাসজমির মাটি লুট হচ্ছে। এতে আবাদিজমির পরিমান, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি কমছে।

৮. বাঁধ সংলগ্ন কৃষক ও সাধারণ জনগণ পিআইসির কার্যক্রম সম্পর্কে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবগত নন, কেননা বাঁধের চলমান কাজের বিবরণী শীর্ষক বেশির ভাগ সাইনবোর্ড দৃশ্যমান নেই।

৯. ফসলরক্ষা বাঁধের পিআইসিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি বিদ্যমান।

১০. সব উপজেলায় অক্ষত বাঁধ প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পরিদর্শনে দৃশ্যমান পুরাতন বাঁধে ধুলোমাটি ফেলে সাদা করে রাখা হয়েছে। একদিনের বৃদ্ধিতে ধুয়ে পুরাতন মাটি বের হয়ে গেছে।

১১. বাঁধে কম্পেকশন না থাকায় বৃষ্টিতে অধিকাংশ বাঁধে গর্ত হয়েছে। কিছু কিছু ক্লোজার বৃষ্টির কারণে ডেবে ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে-

১.বোর ফসল মৌসুমে ফসল রক্ষা বাঁধ কার্যক্রমের সার্ভে ও প্রাক্কলন যথা সময়ে শুরু ও শেষ করতে হবে। সেই সাথে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে।

২.পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কার্যকর, দৃশ্যমান গণশুনানী করতে হবে।

৩.অপরিকল্পিত, অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসি গঠন প্রতিরোধে জেলা, উপজেলা মনিটরিং কমিটিগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে হবে।

৪. কাবিটা নীতিমালা অনুসারে পিআইসি গঠনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মাঠ প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা রাখতে হবে।

৫.পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক এর অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। সেই সাথে তাদেরকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

৬. ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কার্যক্রমে যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি অনিয়ম দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত তাদের চিহ্নিত করে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৭.ফসল রক্ষা বাঁধের নামে হাওরে ফসলি জমি কর্তন ও লুট বন্ধ করতে হবে।

৮.অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসি গুলোকে চিহ্নিত করে পুনঃতদন্ত করে বিল প্রদান করতে হবে।

৯.জেলার সকল হাওরের পানির প্রবাহ সচল রাখতে প্রযাপ্ত সুইচ গেইট স্থাপন করতে হবে। সেই সাথে হাওরের সাথে সংযুক্ত খাল ও নদীগুলিকে খনন করতে হবে এবং প্রয়োজনী স্থানে রাবার ড্রাম তৈরী করতে হবে।

১০.হাওরে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন স্বেচ্ছায় প্রণোদিত হয়ে এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে আমাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে রাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার। সেই সাথে এই সকল কাজে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আমরা সব সময় সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছি।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, ইকবাল কাগজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠনের জেলা সহ সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, এড দীপঙ্কর বনিক, সুহেল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন, মোঃ আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছির, ইমরান হোসেন, বাঁধ বিষয়ক মহসিন আলম।

আরো বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার উপজেলা সদস্য সচিব আবু তাহের মিসবাহ, সদস্য মোফাজ্জল হাসান, ছাতক উপজেলার সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, সদস্য আব্দুর রহমান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলন এর সভাপতি আবু সইদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদস্য সচিব আহমেদ উসমান, সদর উপজেলার সদস্য সচিব শাহা আলম, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আহ্বায়ক নুরুল আলম সাগর, শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক নেতা জিয়াউর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক আকিব জাবেদ, বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান, বন পরিবেশ ও জলবায়ূ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দূর্যোগ ও ত্রাণ বিষয় সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, মিডিয়া এম ডি জাকারিয়া, হাওর ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফারদিন আহমদ, সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ, পৌর কমিটির আহ্বায়ক আকিফুজ্জামান রিপন সহ কমিটির সদস্যরা।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৫৫৩ বার পড়া হয়েছে

ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১০ দফা দাবিতে সুনামগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন এর প্রতিবাদ কর্মসূচি

আপডেট সময় ০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
87

১০ দফা দাবি সহ হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং বর্ধিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচী করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।

সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায়( ১৪ মার্চ ) শনিবার সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার(ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন) এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচীতিতে ১১টি মাঠ পর্যায়ের পর্ববেক্ষণ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহ সভাপতি শাহ কামাল, ১০ টি সুর্নিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচিতে ১১ টি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট এর মধ্যে আছে-
১. পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত ফসলরক্ষা বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন কর্মসূচী দৃশ্যমান ছিলনা। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২. পিআইসি গঠনের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনের গৃহিত গণশুনানী কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিলনা, যার ফলে প্রকৃত অনেক কৃষক পিআইসিতে সম্পৃক্ত হতে পারেননি।

৩. ডিসেম্বর ১৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ, উপজেলা প্রশাসন সমূহ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সারা জেলায় বর্ধিত সময় বৃদ্ধি করেও হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যথাযথ ভাবে সমাপ্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কাজের অগ্রগতি মাঠের সাথে মিল না থাকার কারণে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।

৪. ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সারা জেলায় বেশিরভাগ পিআইসি অক্ষত ছিল। সেখানে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা রাত্রীয় সম্পদ অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে।

৫. পর্যবেক্ষণে দৃশ্যমান পিআইসি ও ক্লোজারগুলোতে বালু মিশ্রিত ও কাঁদাযুক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। সাইনবোর্ডে বরাদ্দকৃত মাটি না ফেলে পুরাতন বাঁধের মাটি মেশিন দিয়ে কুড়ে আবার জায়গার মাটি জায়গায় দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে।

৬. সুনামগঞ্জ জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের ১১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ যথাযথ সম্পন্ন হয়নি।

৭. হাওরের কান্দা, ফসলিজনি ও জমির উপরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের নামে হাওরে সরকারি খাসজমির মাটি লুট হচ্ছে। এতে আবাদিজমির পরিমান, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি কমছে।

৮. বাঁধ সংলগ্ন কৃষক ও সাধারণ জনগণ পিআইসির কার্যক্রম সম্পর্কে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবগত নন, কেননা বাঁধের চলমান কাজের বিবরণী শীর্ষক বেশির ভাগ সাইনবোর্ড দৃশ্যমান নেই।

৯. ফসলরক্ষা বাঁধের পিআইসিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি বিদ্যমান।

১০. সব উপজেলায় অক্ষত বাঁধ প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পরিদর্শনে দৃশ্যমান পুরাতন বাঁধে ধুলোমাটি ফেলে সাদা করে রাখা হয়েছে। একদিনের বৃদ্ধিতে ধুয়ে পুরাতন মাটি বের হয়ে গেছে।

১১. বাঁধে কম্পেকশন না থাকায় বৃষ্টিতে অধিকাংশ বাঁধে গর্ত হয়েছে। কিছু কিছু ক্লোজার বৃষ্টির কারণে ডেবে ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে-

১.বোর ফসল মৌসুমে ফসল রক্ষা বাঁধ কার্যক্রমের সার্ভে ও প্রাক্কলন যথা সময়ে শুরু ও শেষ করতে হবে। সেই সাথে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে।

২.পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কার্যকর, দৃশ্যমান গণশুনানী করতে হবে।

৩.অপরিকল্পিত, অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসি গঠন প্রতিরোধে জেলা, উপজেলা মনিটরিং কমিটিগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে হবে।

৪. কাবিটা নীতিমালা অনুসারে পিআইসি গঠনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মাঠ প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা রাখতে হবে।

৫.পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক এর অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। সেই সাথে তাদেরকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

৬. ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কার্যক্রমে যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি অনিয়ম দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত তাদের চিহ্নিত করে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৭.ফসল রক্ষা বাঁধের নামে হাওরে ফসলি জমি কর্তন ও লুট বন্ধ করতে হবে।

৮.অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসি গুলোকে চিহ্নিত করে পুনঃতদন্ত করে বিল প্রদান করতে হবে।

৯.জেলার সকল হাওরের পানির প্রবাহ সচল রাখতে প্রযাপ্ত সুইচ গেইট স্থাপন করতে হবে। সেই সাথে হাওরের সাথে সংযুক্ত খাল ও নদীগুলিকে খনন করতে হবে এবং প্রয়োজনী স্থানে রাবার ড্রাম তৈরী করতে হবে।

১০.হাওরে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন স্বেচ্ছায় প্রণোদিত হয়ে এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে আমাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে রাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার। সেই সাথে এই সকল কাজে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আমরা সব সময় সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছি।

প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, ইকবাল কাগজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠনের জেলা সহ সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, এড দীপঙ্কর বনিক, সুহেল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন, মোঃ আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছির, ইমরান হোসেন, বাঁধ বিষয়ক মহসিন আলম।

আরো বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার উপজেলা সদস্য সচিব আবু তাহের মিসবাহ, সদস্য মোফাজ্জল হাসান, ছাতক উপজেলার সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, সদস্য আব্দুর রহমান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলন এর সভাপতি আবু সইদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদস্য সচিব আহমেদ উসমান, সদর উপজেলার সদস্য সচিব শাহা আলম, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আহ্বায়ক নুরুল আলম সাগর, শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক নেতা জিয়াউর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক আকিব জাবেদ, বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান, বন পরিবেশ ও জলবায়ূ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দূর্যোগ ও ত্রাণ বিষয় সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, মিডিয়া এম ডি জাকারিয়া, হাওর ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফারদিন আহমদ, সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ, পৌর কমিটির আহ্বায়ক আকিফুজ্জামান রিপন সহ কমিটির সদস্যরা।