ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ভিডিও প্রচার, আমিরাতে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ১০

চেকপোস্ট ডেস্ক::
24

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য নাগরিকরা হলেন ইরান, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মিশর, নেপাল, ক্যামেরুন ও ভারতের। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত নজরদারির ভিত্তিতে এই অসাধু চক্রটিকে শনাক্ত করা হয় এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাস্তব ফুটেজ থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে আসছিল। এসব ভিডিওতে আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণ, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের মিথ্যা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই ছিল এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে এবং বিদেশের কোনো ঘটনাকে আমিরাতের ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রযুক্তির অপব্যবহার করেছে। এমন কিছু ভিডিও ক্লিপ তারা ছড়িয়েছে যেখানে মাটিতে পড়ে থাকা প্রজেক্টাইল বা উৎসুক জনতার ভিড় দেখিয়ে নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, এ ধরনের কন্টেন্ট—তা বাস্তব হোক বা এআই দিয়ে তৈরি—প্রকাশ করা জননিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এটি শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমকে তথ্য বিকৃত করার এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করার সুযোগ করে দেয়।

পাবলিক প্রসিকিউশন ইতিমধ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ফাঁস করে দেয় এমন কোনো ফুটেজ বা ভিডিও শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ডিজিটাল স্পেসকে নিরাপদ রাখতে এবং জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে নিয়মিত কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ড. আল শামসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ভিডিও প্রচার করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ সকল নাগরিক ও প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে আরব আমিরাত প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ভিডিও প্রচার, আমিরাতে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ১০

আপডেট সময় ০২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
24

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য নাগরিকরা হলেন ইরান, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মিশর, নেপাল, ক্যামেরুন ও ভারতের। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত নজরদারির ভিত্তিতে এই অসাধু চক্রটিকে শনাক্ত করা হয় এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাস্তব ফুটেজ থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে আসছিল। এসব ভিডিওতে আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণ, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের মিথ্যা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই ছিল এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে এবং বিদেশের কোনো ঘটনাকে আমিরাতের ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রযুক্তির অপব্যবহার করেছে। এমন কিছু ভিডিও ক্লিপ তারা ছড়িয়েছে যেখানে মাটিতে পড়ে থাকা প্রজেক্টাইল বা উৎসুক জনতার ভিড় দেখিয়ে নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, এ ধরনের কন্টেন্ট—তা বাস্তব হোক বা এআই দিয়ে তৈরি—প্রকাশ করা জননিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এটি শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমকে তথ্য বিকৃত করার এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করার সুযোগ করে দেয়।

পাবলিক প্রসিকিউশন ইতিমধ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ফাঁস করে দেয় এমন কোনো ফুটেজ বা ভিডিও শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ডিজিটাল স্পেসকে নিরাপদ রাখতে এবং জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে নিয়মিত কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ড. আল শামসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ভিডিও প্রচার করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ সকল নাগরিক ও প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে আরব আমিরাত প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।