ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকট, দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

চেকপোস্ট ডেস্ক::
81

গ্যাস সংকটের জেরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে সরকারি নির্দেশনায় কারখানা দুটির গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে দেশের সার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নসর মো. সালেহ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার বিশেষ নির্দেশনা আসার পরপরই কারখানা দুটিতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মূলত শিল্পখাতে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সিইউএফএল প্রতিদিন গড়ে ১,১০০ থেকে ১,২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে, কাফকোর দৈনিক ১,৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ১,৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাজারে সারের যোগান ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সম্ভাব্য সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যাস ছাড়া সার উৎপাদন সম্ভব নয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতিরও বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় আমরা উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছি। এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত পাওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় উৎপাদনে ফিরে যাব।

তবে কাফকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার উৎপাদন বিঘ্নিত হলে কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সরকার আমদানিকৃত এলএনজি এবং দেশীয় গ্যাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বর্তমানে চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম। বিশেষ করে গৃহস্থালি ও অন্যান্য জরুরি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে শিল্পকারখানায় রেশনিং করতে হচ্ছে।

এর আগেও যান্ত্রিক ত্রুটি বা গ্যাস সংকটে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
৫৫৫ বার পড়া হয়েছে

গ্যাস সংকট, দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

আপডেট সময় ১০:০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
81

গ্যাস সংকটের জেরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে সরকারি নির্দেশনায় কারখানা দুটির গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে দেশের সার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নসর মো. সালেহ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার বিশেষ নির্দেশনা আসার পরপরই কারখানা দুটিতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মূলত শিল্পখাতে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সিইউএফএল প্রতিদিন গড়ে ১,১০০ থেকে ১,২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে, কাফকোর দৈনিক ১,৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ১,৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাজারে সারের যোগান ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সম্ভাব্য সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যাস ছাড়া সার উৎপাদন সম্ভব নয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতিরও বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় আমরা উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছি। এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত পাওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় উৎপাদনে ফিরে যাব।

তবে কাফকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার উৎপাদন বিঘ্নিত হলে কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সরকার আমদানিকৃত এলএনজি এবং দেশীয় গ্যাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বর্তমানে চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম। বিশেষ করে গৃহস্থালি ও অন্যান্য জরুরি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে শিল্পকারখানায় রেশনিং করতে হচ্ছে।

এর আগেও যান্ত্রিক ত্রুটি বা গ্যাস সংকটে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছিল।