চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গায় বিএনপি কর্মীকে হত্যার পর লাশ গুম আসামি আ.লীগ নেতারা ঘুরছে দাপটে

স্থানীয় বাজারে বাগবিতণ্ডার মীমাংসার কথা বলে ২ জানুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকরা। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বিএনপি কর্মী গোলকাজুল ওরফে কাজল। নিখোঁজের ৬ দিন পর ৮ জানুয়ারি ৮ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে স্বামীকে গুমের অভিযোগে সদর থানায় মামলা করেন স্ত্রী লিমা বেগম। গুমের ১৯ দিন পর ২০ জানুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বিপরীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচরের কাছে পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ বিএনপি কর্মী গোলকাজুল কাজলের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেন গোদাগাড়ী নৌপুলিশের একটি দল। ওইদিন সন্ধ্যায় নৌপুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে কাজলের লাশ হস্তান্তর করেন। এলাকাবাসী জানায়, কাজল এলাকায় গরু-মহিষ কিনে রাজশাহীর সিটি হাটসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করতেন।
কাজলের স্ত্রী লিমা বেগম ও ভাই শওকত আলীর অভিযোগ, কৌশলে ডেকে নিয়ে কাজলকে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে আসামিরা। লাশ উদ্ধারের এক মাস পরও সদর থানা পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার করেনি। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিয়ে ভোট প্রচার করেছেন। অথচ আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের পদধারী নেতা। নির্বাচনে হারুন পরাজিত হলেও আসামিদের দাপট কমেনি। প্রকাশ্যে ঘুরলেও সদর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের কোনো চেষ্টাই করছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তাদের আরও অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা খুবই রহস্যজনক। আসামিরা ঘুরছে বলে পুলিশকে জানালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ওসি সোজা বলে দিচ্ছেন তদন্ত চলছে। এখনই আসামি ধরা যাবে না।
জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি স্থানীয় বাজারের ওপর আসামি আলম ও নাজমুল কানার সঙ্গে ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়ে কাজলের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে মীমাংসার কথা বলে কাজলকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তুলে আসামি হাসেম আলী তার সহযোগী আলমের বাড়িতে নিয়ে যায়। হাসেম আলী কাজলের বাড়িতে গিয়ে জানায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী ও জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলামসহ নেতারা আলমের বাড়িতে বসা আছেন। স্ত্রী লিমা বেগম জানান, রাতের বেলা হাসেম যখন স্বামী কাজলকে ডাকতে আসে তখনই আমার সন্দেহ হয়েছিল। আমি প্রথমে যেতে বারণ করেছিলাম।
কাজলের স্ত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে যে ৮ জনকে আসামি করা হয় তারা হলেন-আলম, হাসেম আলী, জোহাক আলী, ওমর আলী, নুরুল ইসলাম, নাজমুল হক গুধা, নেজাম উদ্দিন ও আতাবুর রহমান সেন্টুসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জন।
আসামিরা প্রত্যেকেই সদর আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের অতি আস্থাভাজন হিসাবে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন। আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেওয়ার পরও তাদের আধিপত্যে ভাটা পড়েনি। তারা সীমান্ত চোরাচালানসহ মাদক কারবার করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি পালিয়ে যাওয়ার পর আসামিরা বিএনপি প্রার্থী হারুনের সঙ্গে ভিড়ে যান।
শওকত অভিযোগে আরও বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় আমি দেখেছি কাজলের নাক-মুখ থেঁতলে দিয়ে সব দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছে। মাথায়ও বড় আঘাতের চিহ্ন ছিল। কোমরের নিচে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ শনিবার দুপুরে বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে থেকে ভোট প্রচার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়ে আপনি ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন।



















