ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরমোনাই পীরের তিন ভাইয়ের শোচনীয় পরাজয়

নিজস্ব সংবাদ :
166

চর‌মোনাই পী‌রের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ নির্বাচনে সারা‌ দে‌শে ২৫৩ জন প্রার্থী দেয়। হাতপাখার প্রার্থী থে‌কে দলীয় কর্মীদের চোখে ছিল প্রত্যাশা। জুলাই আন্দোলন-পরব‌র্তী আওয়ামী লী‌গের অনুপ‌স্থি‌তি‌তে অনু‌ষ্ঠিত এ নির্বাচ‌নে রাজনৈতিক মানচিত্রে কিছুটা বদল আসবে বলে আশা ছিল তাদের।

হাতপাখার ২৫৩‌টি আস‌নের ম‌ধ্যে বরগুনা-১ আসনে সেই শার আংশিক ছাপ প‌ড়ে‌ছিল। সেখানে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অলি উল্লাহ জয় পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পীরের তিন ভাই চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কেউ জিততে পারেননি। বরং এক ভাইয়ের ক্ষেত্রে জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজিরহাট) আসনে প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তিনি ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ৩২২ এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। চরমোনাই পরিবারের প্রার্থী এখানে স্পষ্টভাবে তৃতীয় শক্তি।

আবুল খা‌য়ের সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্যমে লে‌খেন, ‘ভোটের ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী আসেনি। তবু এটা ব্যর্থতা নয়। আমাদের পরিশ্রম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাই বৃথা যায়নি। ধৈর্য ধরে একসাথে থাকব, আরো শক্ত হয়ে ফিরে আসব, ইনশাআল্লাহ।’

বরিশাল-৫ (বরিশাল সি‌টি-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রার্থী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। বরিশাল-৫ আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। অন্যদিকে, এক লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে আসনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল ক‌রি‌মের পরিস্থিতি আরো দুর্বল। এখানে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের  প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকের ফয়জুল করিম পেয়েছেন মাত্র ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে নিজের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফয়জুল করিম। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন ‘৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। আপনাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ!’

ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ, যি‌নি আল মাদানী না‌মে প‌রি‌চিত। তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ।

এই আসনে মোট ভোটের মধ্যে পড়েছিল ৪৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জয়ী হন। হাতপাখা প্রতীকে মোসাদ্দেক বিল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ছয় হাজার ৫১৮ ভোট। জামানতও রক্ষা হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৪:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫৯৭ বার পড়া হয়েছে

চরমোনাই পীরের তিন ভাইয়ের শোচনীয় পরাজয়

আপডেট সময় ০৪:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
166

চর‌মোনাই পী‌রের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ নির্বাচনে সারা‌ দে‌শে ২৫৩ জন প্রার্থী দেয়। হাতপাখার প্রার্থী থে‌কে দলীয় কর্মীদের চোখে ছিল প্রত্যাশা। জুলাই আন্দোলন-পরব‌র্তী আওয়ামী লী‌গের অনুপ‌স্থি‌তি‌তে অনু‌ষ্ঠিত এ নির্বাচ‌নে রাজনৈতিক মানচিত্রে কিছুটা বদল আসবে বলে আশা ছিল তাদের।

হাতপাখার ২৫৩‌টি আস‌নের ম‌ধ্যে বরগুনা-১ আসনে সেই শার আংশিক ছাপ প‌ড়ে‌ছিল। সেখানে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অলি উল্লাহ জয় পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পীরের তিন ভাই চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কেউ জিততে পারেননি। বরং এক ভাইয়ের ক্ষেত্রে জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজিরহাট) আসনে প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তিনি ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ৩২২ এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। চরমোনাই পরিবারের প্রার্থী এখানে স্পষ্টভাবে তৃতীয় শক্তি।

আবুল খা‌য়ের সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্যমে লে‌খেন, ‘ভোটের ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী আসেনি। তবু এটা ব্যর্থতা নয়। আমাদের পরিশ্রম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাই বৃথা যায়নি। ধৈর্য ধরে একসাথে থাকব, আরো শক্ত হয়ে ফিরে আসব, ইনশাআল্লাহ।’

বরিশাল-৫ (বরিশাল সি‌টি-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রার্থী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। বরিশাল-৫ আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। অন্যদিকে, এক লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে আসনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল ক‌রি‌মের পরিস্থিতি আরো দুর্বল। এখানে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের  প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকের ফয়জুল করিম পেয়েছেন মাত্র ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে নিজের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফয়জুল করিম। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন ‘৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। আপনাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ!’

ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ, যি‌নি আল মাদানী না‌মে প‌রি‌চিত। তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ।

এই আসনে মোট ভোটের মধ্যে পড়েছিল ৪৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জয়ী হন। হাতপাখা প্রতীকে মোসাদ্দেক বিল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ছয় হাজার ৫১৮ ভোট। জামানতও রক্ষা হয়নি।