ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে ধরা পড়লেন ছাত্রদল নেতা মারুফ হাসান তাহসিন

কক্সবাজার প্রতিনিধি:;
15

কক্সবাজার সদর উপজেলাসহ সারাদেশে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা আবারও জনমনে আস্থা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ এমনই এক অভিযানে সেনাবাহিনী দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পাশাপাশি একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীন ৯ ই বেংগল-এর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযান-পরবর্তী গভীর অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, দক্ষিণ ডিককুল এলাকার মারুফ হাসান তাহসিন ও অজুফা বেগম দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ওই এলাকার সাংবাদিক ফরহাদকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে অস্ত্র ও কার্তুজ রেখে যায়।

সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সতর্ক তৎপরতায় সন্দেহভাজন মারুফ হাসান তাহসিনকে আটক করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর অভিযুক্ত অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক ফরহাদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে গত প্রায় দুই বছর ধরে অজুফা বেগম ও তার সহযোগীরা তাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর একটি গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়, যা সেনাবাহিনীর তৎপরতায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়।

এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি আগেভাগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই সাহসী, মানবিক ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ৯ ই বেংগল-এর টহল দল সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত ও নিয়োজিত রয়েছে বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরীহ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যেকোনো অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন আপসহীন ভূমিকা আবারও প্রমাণ করল—
সেনাবাহিনী শুধু শক্তির প্রতীক নয়, ন্যায় ও জনআস্থার অন্যতম ভরসাস্থল।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে ধরা পড়লেন ছাত্রদল নেতা মারুফ হাসান তাহসিন

আপডেট সময় ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
15

কক্সবাজার সদর উপজেলাসহ সারাদেশে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা আবারও জনমনে আস্থা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ এমনই এক অভিযানে সেনাবাহিনী দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পাশাপাশি একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীন ৯ ই বেংগল-এর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযান-পরবর্তী গভীর অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, দক্ষিণ ডিককুল এলাকার মারুফ হাসান তাহসিন ও অজুফা বেগম দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ওই এলাকার সাংবাদিক ফরহাদকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে অস্ত্র ও কার্তুজ রেখে যায়।

সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সতর্ক তৎপরতায় সন্দেহভাজন মারুফ হাসান তাহসিনকে আটক করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর অভিযুক্ত অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক ফরহাদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে গত প্রায় দুই বছর ধরে অজুফা বেগম ও তার সহযোগীরা তাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর একটি গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়, যা সেনাবাহিনীর তৎপরতায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়।

এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি আগেভাগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই সাহসী, মানবিক ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ৯ ই বেংগল-এর টহল দল সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত ও নিয়োজিত রয়েছে বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরীহ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যেকোনো অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন আপসহীন ভূমিকা আবারও প্রমাণ করল—
সেনাবাহিনী শুধু শক্তির প্রতীক নয়, ন্যায় ও জনআস্থার অন্যতম ভরসাস্থল।