একাত্তরের চেতনাই রাষ্ট্রের মূল শক্তি: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

মহান মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার তুলে দেওয়া জাতির জন্য অশনিসংকেত।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের জাতিসত্তা, স্বাধীনতা ও অগ্রগতির পথচিহ্ন। এই ইতিহাসকে অস্বীকার বা মুছে ফেলার চেষ্টা মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে একাত্তরের চেতনা দুর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, যা কখনোই সফল হবে না।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ভোটাধিকার একটি পবিত্র দায়িত্ব। পাঁচ বছর পর পাওয়া এই সুযোগের অপব্যবহার করা হলে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভোট দেওয়ার সময় যোগ্য ও দায়িত্বশীল প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয় করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমাবেশে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


























