ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার অনলাইন সাংবাদিক

গঙ্গাচড়ায় বিএনপির নির্বাচনী পথসভা ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ২

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি::
169

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনের পথসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে একজন মিডিয়াকর্মীসহ অন্তত দুইজন আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তুলশিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পথসভা স্থগিত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির আয়োজিত পথসভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, “দেশে এমন এক দল আছে, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে রাজনীতি করে।” এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাবেক ছাত্রশিবির কর্মী। এতে সভাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মালেক বলেন, “হঠাৎ করেই দুই পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। স্কুল মাঠে এমন ঘটনা হবে ভাবিনি। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ জানান, “রাজনৈতিক সভা মানেই এখন মারামারি। নারী ও শিশুসহ অনেকেই ভয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।”

সংঘর্ষ চলাকালে অনলাইন গণমাধ্যম (RUB)–এর কর্মী আব্দুর রাজ্জাক ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাবেক ছাত্রশিবির কর্মী হোসাইন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সভাপতির বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাইলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে দোকানে ঢুকেও তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় ভিডিও করায় সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাককেও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে রাত সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার দাবি করেন, কাউন্টার বক্তব্যের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আহত হননি বলেও তিনি দাবি করেন।

জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গণমাধ্যম কর্মীর ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। উস্কানিমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে।”

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটায় দুই পক্ষকে ডেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে গঙ্গাচড়া বাজারের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
৫৯৭ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার অনলাইন সাংবাদিক

গঙ্গাচড়ায় বিএনপির নির্বাচনী পথসভা ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ২

আপডেট সময় ০৯:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
169

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনের পথসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে একজন মিডিয়াকর্মীসহ অন্তত দুইজন আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তুলশিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পথসভা স্থগিত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির আয়োজিত পথসভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, “দেশে এমন এক দল আছে, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে রাজনীতি করে।” এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাবেক ছাত্রশিবির কর্মী। এতে সভাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মালেক বলেন, “হঠাৎ করেই দুই পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। স্কুল মাঠে এমন ঘটনা হবে ভাবিনি। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ জানান, “রাজনৈতিক সভা মানেই এখন মারামারি। নারী ও শিশুসহ অনেকেই ভয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।”

সংঘর্ষ চলাকালে অনলাইন গণমাধ্যম (RUB)–এর কর্মী আব্দুর রাজ্জাক ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাবেক ছাত্রশিবির কর্মী হোসাইন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সভাপতির বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাইলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে দোকানে ঢুকেও তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় ভিডিও করায় সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাককেও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে রাত সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার দাবি করেন, কাউন্টার বক্তব্যের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আহত হননি বলেও তিনি দাবি করেন।

জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গণমাধ্যম কর্মীর ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। উস্কানিমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে।”

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটায় দুই পক্ষকে ডেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে গঙ্গাচড়া বাজারের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।