আসন ছাড় না পাওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে দাঁড়িয়ে ১২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা
বিএনপির জোট ছাড়ল নাগরিক ঐক্য, একক নির্বাচনের ঘোষণা মান্নার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট থেকে সরে দাঁড়িয়ে এককভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডির পর এবার জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল দলটি।
নাগরিক ঐক্যের নেতারা জানান, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও বিএনপির পক্ষ থেকে নাগরিক ঐক্যের জন্য কোনো আসন ছাড় না দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। বিশেষ করে বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার বিপরীতে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে শাহে আলমকে মনোনয়ন দেয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওই মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় দুই দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান আসেনি বলে দলটির দাবি।
এরপর সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ‘একলা চলো’ নীতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। এ সময় দলটি ১২টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়-নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ মোফাখখারুল ইসলাম রংপুর-৫, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন জামালপুর-৪, আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ ছাড়া, অর্থ সম্পাদক শাহনাজ রানু পাবনা-৬, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্বপন মজুমদার চট্টগ্রাম-৯, অধ্যাপক এনামুল হক চাঁদপুর-২, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল সালাম কুড়িগ্রাম-২, ডা. শামসুল আলম রাজশাহী-২ এবং মোহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জয়পুরহাট-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের আরও একজন প্রার্থী থাকবেন, তবে তিনি এখনো নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। এই অধিকার কোনোভাবেই সংকুচিত হতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শপথের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় সংস্কার আরও এগিয়ে যাবে।
মান্না আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য প্রায় এক হলেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
“শুরু থেকেই আমরা বলে এসেছি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে ঐক্য ছিল, তা নির্বাচন পর্যন্ত থাকবে না। নির্বাচনে প্রত্যেক দল নিজ নিজ এজেন্ডা নিয়ে জনগণের সামনে যাবে।”


























