সড়ক সংস্কার কাজে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ
ডুমুরিয়ায় ভূমি অফিসের ‘বড় বাবু’ এখন ঠিকাদার!

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী (বড় বাবু) মো. নাছিমুল হক গাজীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী হয়েও দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির নীতিমালা উপেক্ষা করে তিনি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ডুমুরিয়া মুক্তিযোদ্ধা মোড়ে পুনর্নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে তাকে সরাসরি তদারকিতে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে শরাফপুর সড়কে কার্পেটিং ও সংস্কার কাজেও নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন তিনি।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোড় হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার ডুমুরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কটি ‘জিওবি মেইনটেনেন্স’ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মেসার্স শাহিদা এন্টারপ্রাইজ। তবে বাস্তবে কাজটি করছেন সানজিদা আক্তার নামের এক নারী ঠিকাদার।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম, আলামিন, গৌতম ও সোহেলসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, “ডুমুরিয়া ভূমি অফিসের বড় বাবুই এখন বড় ঠিকাদার। সব কাজ তিনিই দেখভাল করছেন। এতে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার সানজিদা আক্তার বলেন, “মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি আমি কিনে নিয়েছি। সহযোগিতার জন্য আমার খালাতো ভাই নাছিমুল হক গাজী কাজটি দেখাশোনা করছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে মো. নাছিমুল হক গাজী বলেন, “আমি একাজের পার্টনারশিপে রয়েছি।”
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম জানান, “কাজের সাইটে প্রায়ই নাছিমুল হক গাজীকে দেখা যায়। তবে মূল ঠিকাদার শাহিদা এন্টারপ্রাইজ এবং কাজটি বাস্তবায়ন করছেন সানজিদা আক্তার।”
ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “শুনেছি নাছিমুল হকের ছেলের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। তিনি সেই কাজগুলো দেখাশোনা করেন।”
সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির ১৭ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ঠিকাদারি বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এ ঘটনায় সরকারি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানা যায়নি।























