ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

শৈত্যপ্রবাহে জামালপুর হাসপাতালে রোগীর ভিড়

জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর::
70

ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জামালপুরে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে জেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর চাপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলায় শতবর্ষী মরিয়ম বেওয়া নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ৬২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে-ঠান্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ১২৭ জন, ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৩ জন, ৩২ শয্যার শিশু আইসিইউতে ভর্তি ৪৪ জন।

ফলে শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। একেকটি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিশু খাদিজার মা হ্যাপি বেগম বলেন, “শীত পড়ার পর থেকেই মেয়ের ঠান্ডা-জ্বর শুরু হয়। ফার্মেসির ওষুধে কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন কিছুটা ভালো।”

ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “পাঁচ মাস বয়সী নাতনিকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে।”

লাঙ্গলজোড়া এলাকার রাজিয়া বেগম জানান, “নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে এসে কোনো সিট পাইনি। নিচে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।”

হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বলেন, “প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এত শিশু রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, “প্রতিবছর শীতকালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। শিশুদের জন্য চিকিৎসক ও জায়গা-দুটোরই সংকট রয়েছে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবার রাতে জেলায় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ওঠানামা করেছে।

জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, “জেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে।”

মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। আরও শীতবস্ত্র বিতরণ জরুরি।”

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

শৈত্যপ্রবাহে জামালপুর হাসপাতালে রোগীর ভিড়

আপডেট সময় ১০:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
70

ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জামালপুরে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে জেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর চাপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলায় শতবর্ষী মরিয়ম বেওয়া নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ৬২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে-ঠান্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ১২৭ জন, ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৩ জন, ৩২ শয্যার শিশু আইসিইউতে ভর্তি ৪৪ জন।

ফলে শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। একেকটি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিশু খাদিজার মা হ্যাপি বেগম বলেন, “শীত পড়ার পর থেকেই মেয়ের ঠান্ডা-জ্বর শুরু হয়। ফার্মেসির ওষুধে কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন কিছুটা ভালো।”

ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “পাঁচ মাস বয়সী নাতনিকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে।”

লাঙ্গলজোড়া এলাকার রাজিয়া বেগম জানান, “নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে এসে কোনো সিট পাইনি। নিচে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।”

হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বলেন, “প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এত শিশু রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, “প্রতিবছর শীতকালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। শিশুদের জন্য চিকিৎসক ও জায়গা-দুটোরই সংকট রয়েছে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবার রাতে জেলায় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ওঠানামা করেছে।

জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, “জেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে।”

মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। আরও শীতবস্ত্র বিতরণ জরুরি।”