ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক পোস্টে দলীয় নীতিচ্যুতি ও জোট রাজনীতির সমালোচনা

নির্বাচনে এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সরে গেলেন যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত

চেকপোস্ট ডেস্ক::
115

নির্বাচনকালীন সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ফেসবুক পোস্টে নুসরাত তাবাসসুম লেখেন, “এনসিপি তার জন্মলগ্নে আমাদের একটি স্বপ্ন দেখিয়েছিল— গণতন্ত্রের সুষম চর্চা, নয়া বন্দোবস্ত, মধ্যপন্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশপন্থা। এই প্রতিটি শব্দই আমার রাজনৈতিক স্বপ্ন।”

তিনি বলেন, এনসিপির ঘোষণাপত্র ও দলীয় সাহিত্যগুলোতে এসব আদর্শই প্রতিফলিত হয়েছিল এবং দল গঠনের সময় এনসিপি ছিল ঠিক সেই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন।

তবে নুসরাত তাবাসসুম অভিযোগ করেন, “আজ ২৮/১২/২০২৫— প্রায় ১০ মাস পর জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এনসিপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকেরা নিজেরাই দলের মূল বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন।”

তিনি আরও লেখেন, বিভিন্ন সময়ে দলের আহ্বায়কসহ দায়িত্বশীল নেতারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে জোট রাজনীতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তৃণমূল থেকে মনোনয়ন নেওয়া নেতাকর্মীরা প্রবঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

এ সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নুসরাত তাবাসসুম ঘোষণা দেন, “আমি নিজেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনকালীন সময়ে পার্টির সকল কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় করছি। পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ নভেম্বর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া–১ (দৌলতপুর) আসনে প্রার্থী হতে এনসিপির মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন নুসরাত তাবাসসুম। তবে গত ১০ ডিসেম্বর দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১২৫ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ওই তালিকায় নুসরাত তাবাসসুমের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নুসরাত তাবাসসুমের এই সিদ্ধান্ত এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকট ও জোট রাজনীতিকে ঘিরে অসন্তোষের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৫৯৩ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুক পোস্টে দলীয় নীতিচ্যুতি ও জোট রাজনীতির সমালোচনা

নির্বাচনে এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সরে গেলেন যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত

আপডেট সময় ১১:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
115

নির্বাচনকালীন সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ফেসবুক পোস্টে নুসরাত তাবাসসুম লেখেন, “এনসিপি তার জন্মলগ্নে আমাদের একটি স্বপ্ন দেখিয়েছিল— গণতন্ত্রের সুষম চর্চা, নয়া বন্দোবস্ত, মধ্যপন্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশপন্থা। এই প্রতিটি শব্দই আমার রাজনৈতিক স্বপ্ন।”

তিনি বলেন, এনসিপির ঘোষণাপত্র ও দলীয় সাহিত্যগুলোতে এসব আদর্শই প্রতিফলিত হয়েছিল এবং দল গঠনের সময় এনসিপি ছিল ঠিক সেই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন।

তবে নুসরাত তাবাসসুম অভিযোগ করেন, “আজ ২৮/১২/২০২৫— প্রায় ১০ মাস পর জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এনসিপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকেরা নিজেরাই দলের মূল বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন।”

তিনি আরও লেখেন, বিভিন্ন সময়ে দলের আহ্বায়কসহ দায়িত্বশীল নেতারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে জোট রাজনীতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তৃণমূল থেকে মনোনয়ন নেওয়া নেতাকর্মীরা প্রবঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

এ সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নুসরাত তাবাসসুম ঘোষণা দেন, “আমি নিজেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনকালীন সময়ে পার্টির সকল কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় করছি। পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ নভেম্বর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া–১ (দৌলতপুর) আসনে প্রার্থী হতে এনসিপির মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন নুসরাত তাবাসসুম। তবে গত ১০ ডিসেম্বর দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১২৫ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ওই তালিকায় নুসরাত তাবাসসুমের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নুসরাত তাবাসসুমের এই সিদ্ধান্ত এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকট ও জোট রাজনীতিকে ঘিরে অসন্তোষের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।