ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঙালি ফ্যাশনে বাটিকের জনপ্রিয়তা

চেকপোস্ট ডেস্ক::

ছবি: সংগৃহীত

189

আধুনিক ফ্যাশনে বাটিক প্রিন্টের জনপ্রিয়তা অমোঘ। কিশোরী থেকে বয়স্ক, এমনকি শিশুরাও বাটিকের আরামদায়ক পোশাক পরতে পছন্দ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাটিকের নকশা ও রঙের বৈচিত্র্য বেড়েছে, সঙ্গে রয়েছে বাঙালিয়ানার ছাপ।

বাটিকের ইতিহাস
বাটিকের উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও বালিতে। সমুদ্রের নীল জলরাশি ও সবুজ প্রকৃতি ফুটে ওঠে বাটিকের রঙে। কারিগররা হাতে তৈরি নকশায় স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটান। পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাটিকের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন, যেখানে শান্তিনিকেতন মূলত আলপনার নকশা ব্যবহার করে বাটিক তৈরি হতো।

বাটিকের আধুনিক ব্যবহার

নারীদের পোশাকে: দৈনন্দিন ব্যবহার, উৎসব ও অফিসের জন্য সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি ও শাড়িতে বাটিকের চাহিদা। হালকা রঙের বাটিক পোশাক দেয় স্বস্তি ও ফ্যাশনের ছোঁয়া।

ছেলেদের পোশাকে: হাফ হাতা শার্ট, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। ক্যাজুয়াল ও সেমি-ক্যাজুয়াল ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য।

বাটিক তৈরির প্রক্রিয়া
কাপড়ে প্রথমে মোম দিয়ে নকশা আঁকা হয়। তারপর রঙে ভিজিয়ে শুকানো হয় এবং মোম সরিয়ে নতুন নকশা তৈরি হয়। ইদানীং ব্লক বাটিকের কাজও হচ্ছে।

রঙ ও কাপড়
প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক রঙ ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক রঙ হিসেবে নীল, তুঁতে, গাঁদাফুল, শিউলীফুল, পেঁয়াজের খোসা ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। কাপড় হিসেবে সুতি, সিল্ক, তসর, মসলিন, খাদি, এন্ডিকটন ব্যবহার করা হয়।

ফ্যাশন হাউসের ডিজাইন
ফ্যাশন হাউসগুলোতে সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, ফতুয়া, শাড়ি, শার্ট ও পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। বেডশীট ও ঘর সাজানোর উপকরণেও বাটিক প্রয়োগ হচ্ছে।

ট্রেন্ডিং
বাটিক স্কার্ট ও পালাজ্জো জনপ্রিয়। ম্যাচিং রঙে পাঞ্জাবি বা শাড়ি পড়া ফ্যাশনেবল লুক দেয়।

দরদাম ও কোথায় পাবেন
ঢাকার আড়ং, তাগা, হরীতকী, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, নিপুণ, দেশাল, যাত্রা সহ ফ্যাশন হাউজে বাটিক পোশাক পাওয়া যায়। দাম: ৫৫০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
৮০১ বার পড়া হয়েছে

বাঙালি ফ্যাশনে বাটিকের জনপ্রিয়তা

আপডেট সময় ০২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
189

আধুনিক ফ্যাশনে বাটিক প্রিন্টের জনপ্রিয়তা অমোঘ। কিশোরী থেকে বয়স্ক, এমনকি শিশুরাও বাটিকের আরামদায়ক পোশাক পরতে পছন্দ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাটিকের নকশা ও রঙের বৈচিত্র্য বেড়েছে, সঙ্গে রয়েছে বাঙালিয়ানার ছাপ।

বাটিকের ইতিহাস
বাটিকের উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও বালিতে। সমুদ্রের নীল জলরাশি ও সবুজ প্রকৃতি ফুটে ওঠে বাটিকের রঙে। কারিগররা হাতে তৈরি নকশায় স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটান। পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাটিকের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন, যেখানে শান্তিনিকেতন মূলত আলপনার নকশা ব্যবহার করে বাটিক তৈরি হতো।

বাটিকের আধুনিক ব্যবহার

নারীদের পোশাকে: দৈনন্দিন ব্যবহার, উৎসব ও অফিসের জন্য সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি ও শাড়িতে বাটিকের চাহিদা। হালকা রঙের বাটিক পোশাক দেয় স্বস্তি ও ফ্যাশনের ছোঁয়া।

ছেলেদের পোশাকে: হাফ হাতা শার্ট, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। ক্যাজুয়াল ও সেমি-ক্যাজুয়াল ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য।

বাটিক তৈরির প্রক্রিয়া
কাপড়ে প্রথমে মোম দিয়ে নকশা আঁকা হয়। তারপর রঙে ভিজিয়ে শুকানো হয় এবং মোম সরিয়ে নতুন নকশা তৈরি হয়। ইদানীং ব্লক বাটিকের কাজও হচ্ছে।

রঙ ও কাপড়
প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক রঙ ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক রঙ হিসেবে নীল, তুঁতে, গাঁদাফুল, শিউলীফুল, পেঁয়াজের খোসা ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। কাপড় হিসেবে সুতি, সিল্ক, তসর, মসলিন, খাদি, এন্ডিকটন ব্যবহার করা হয়।

ফ্যাশন হাউসের ডিজাইন
ফ্যাশন হাউসগুলোতে সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, ফতুয়া, শাড়ি, শার্ট ও পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। বেডশীট ও ঘর সাজানোর উপকরণেও বাটিক প্রয়োগ হচ্ছে।

ট্রেন্ডিং
বাটিক স্কার্ট ও পালাজ্জো জনপ্রিয়। ম্যাচিং রঙে পাঞ্জাবি বা শাড়ি পড়া ফ্যাশনেবল লুক দেয়।

দরদাম ও কোথায় পাবেন
ঢাকার আড়ং, তাগা, হরীতকী, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, নিপুণ, দেশাল, যাত্রা সহ ফ্যাশন হাউজে বাটিক পোশাক পাওয়া যায়। দাম: ৫৫০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত।