ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আশাশুনির বিছট গ্রামে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

এম ইদ্রিস আলী, সাতক্ষীরা::

ছবি: চেকপোস্ট

“ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই” স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “আলোর পথে” নামক স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এটি অনুষ্ঠিত হয় ঈদের দিন, যখন খোলপেটুয়া নদীর ভাঙনের ফলে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে মানুষের পানি বন্দি হওয়ার ঘটনা ঘটে।

মানববন্ধনে বক্তারা এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির মোকাবেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা প্রশাসনের অবহেলা এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করেন। এছাড়া, খোলপেটুয়া নদীর সর্বশেষ ভাঙনের জন্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলাকে দায়ী করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র হেলাল সালাহউদ্দিন বলেন, “এ অঞ্চলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে, যার ফলে নদীভাঙন ঘটে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণই একমাত্র সমাধান। স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদি আন্তরিক হতেন এবং তাদের সদিচ্ছা থাকত, তাহলে এই ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তাদের অবহেলার কারণেই সাধারণ মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দীন হোসেন তার বক্তব্যে প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতাদের গাফিলতির জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য যদি যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হত, তাহলে এই দুর্ভোগ এড়ানো যেত। প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতার কারণে আজ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে।”

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী আল-আমিন নদীভাঙনের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করে বলেন, “যারা মানুষের কষ্টে মায়া অনুভব করেন না, তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।” তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেও তীব্রভাবে সমালোচনা করেন।

মানববন্ধন শেষে, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহ ৬ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ঈদের দিন সকালে, পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে বিছট, বল্লভপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, কাকবাসিয়া সহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ভেসে যায় হাজার হাজার বিঘা জমির চিংড়ির ঘের।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
৫১৭ বার পড়া হয়েছে

আশাশুনির বিছট গ্রামে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১১:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

“ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই” স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “আলোর পথে” নামক স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এটি অনুষ্ঠিত হয় ঈদের দিন, যখন খোলপেটুয়া নদীর ভাঙনের ফলে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে মানুষের পানি বন্দি হওয়ার ঘটনা ঘটে।

মানববন্ধনে বক্তারা এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির মোকাবেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা প্রশাসনের অবহেলা এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করেন। এছাড়া, খোলপেটুয়া নদীর সর্বশেষ ভাঙনের জন্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলাকে দায়ী করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র হেলাল সালাহউদ্দিন বলেন, “এ অঞ্চলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে, যার ফলে নদীভাঙন ঘটে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণই একমাত্র সমাধান। স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদি আন্তরিক হতেন এবং তাদের সদিচ্ছা থাকত, তাহলে এই ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তাদের অবহেলার কারণেই সাধারণ মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দীন হোসেন তার বক্তব্যে প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতাদের গাফিলতির জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য যদি যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হত, তাহলে এই দুর্ভোগ এড়ানো যেত। প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতার কারণে আজ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে।”

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী আল-আমিন নদীভাঙনের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করে বলেন, “যারা মানুষের কষ্টে মায়া অনুভব করেন না, তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।” তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেও তীব্রভাবে সমালোচনা করেন।

মানববন্ধন শেষে, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহ ৬ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ঈদের দিন সকালে, পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে বিছট, বল্লভপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, কাকবাসিয়া সহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ভেসে যায় হাজার হাজার বিঘা জমির চিংড়ির ঘের।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/checkpostcom/public_html/wp-includes/functions.php on line 5464