বিশ্ব ঐতিহ্যের ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের ঢল
ঈদুল ফিতরের টানা ৯ দিনের ছুটিতে বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃত এই ঐতিহাসিক স্থানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন, এদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন।
দীর্ঘ এক মাস রোজার পর এবার ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা ভ্রমণে বের হয়েছেন। ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকা যাদুঘর, বিভিন্ন রাইডস, প্রশস্ত সড়ক, আলোকসজ্জা, নানা জাতের ফুল এবং মসজিদের পশ্চিম পাশে বিশাল আকৃতির ঘোড়াদিঘি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষকে। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
নাজিরপুর থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “ঈদের টানা ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে এসেছি। অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে আসার। আজ আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা এক দর্শনার্থী জানান, “আমার শ্বশুরবাড়ি বাগেরহাটে হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত, প্রাচীন ও মনোরম পরিবেশ সত্যিই উপভোগ্য।”
ষাটগম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। আমরা ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করছি যাতে সবাই নির্বিঘ্নে দর্শনীয় স্থান উপভোগ করতে পারেন।”
ষাটগম্বুজ মসজিদ ছাড়াও বাগেরহাটের চন্দ্রমহল ইকোপার্ক, সুন্দরবন রিসোর্ট, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, হিরণ পয়েন্ট, টাইগার পয়েন্ট, দুবলা, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড-এও পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর পাড়ে রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে বিকেলে সূর্যাস্ত দেখতে হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন।
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের পর্যটন খাত প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।