১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ, থাকছে আরও যেসব আয়োজন

দীর্ঘ ১৮ বছরের বিরতি ভেঙে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ফিরতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। পূর্ণাঙ্গ কুচকাওয়াজসহ এবার অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাই পাস্ট। সে উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ কুচকাওয়াজের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে দুই বছর পরপর এ দিবসে সমরাস্ত্র প্রদর্শনী হতো। আর প্যারেড হতো বিজয় দিবসে। ২০০৮ সালের পর দীর্ঘ দেড় যুগ এই আয়োজন বন্ধ ছিল। পুনরায় এটি চালু হওয়ায় জনমনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৭ বছর এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন।
কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্টের নেতৃত্ব দেবেন প্যারেড অধিনায়ক নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সে বছর স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় সামরিক কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়। তবে অন্যান্য কর্মসূচি সীমিত পরিসরে পালিত হয়। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সারা দেশে সব ধরনের গণজমায়েত বন্ধ থাকায় স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজসহ বড় আয়োজনগুলো স্থগিত করা হয়। কেবল সীমিত পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া অন্যান্য বছরের মধ্যে ২০০৮ থেকে ২০২৫ পযর্ন্ত সময়ে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কুচকাওয়াজ অনিয়মিত ছিল এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ স্থগিত থাকলেও স্বাধীনতা দিবসে আয়োজন স্বাভাবিক ছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ঢাকায় পূর্ণাঙ্গ কুচকাওয়াজ না হলেও জেলা পর্যায়ে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সুসজ্জিত কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে। সুশৃঙ্খল পদচারণা, সমন্বিত কৌশল এবং প্রশিক্ষণের দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ইউনিটগুলো তাদের নৈপুণ্য তুলে ধরবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকবে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্রের বিশাল প্রদর্শনী।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট কুচকাওয়াজে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে। আকাশে লাল-সবুজ রঙের ধোঁয়া ছড়িয়ে প্রদর্শনীর পাশাপাশি দক্ষ প্যারাট্রুপারদের প্যারাসুট জাম্প দর্শকদের মধ্যে বাড়তি রোমাঞ্চ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর এ আয়োজন ফিরে আসায় প্যারেড গ্রাউন্ডে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট গেট দিয়ে প্রবেশের পর বিপুল মানুষ গ্যালারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল পর্যন্ত প্যারেড স্কয়ারে প্রদর্শিত সামরিক সরঞ্জামগুলো সাধারণ দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
জাতীয় দিবসের উদযাপনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এবং জনসাধারণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ১৮ বছর পর এ আয়োজন পুনরায় চালু করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজটি পরিচালিত হবে।
























