ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ৪ শিশুর মৃত্যু

চেকপোস্ট ডেস্ক::
2

হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন চার শিশু। তবে, এই চার শিশুর মৃত্যু হামে হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ ছিল।

এ ছাড়া চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭০৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে ৫৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, হাম উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন।

এদিকে ঢাকাসহ দেশের বেশকিছু জেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টিকা দেওয়ার পরেও অনেক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সম্প্রতি জানান, গত আট বছর টিকা দেওয়ার হার খুবই কম থাকায় হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার নতুন করে টিকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে হামের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করবে সরকার।

তিনি আরও বলেন, আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুরা এই টিকা পেলেও বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শিশু-কিশোররা এই টিকা নিতে পারবে।

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে- তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৭:৫২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
৫০১ বার পড়া হয়েছে

হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ৪ শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:৫২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
2

হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন চার শিশু। তবে, এই চার শিশুর মৃত্যু হামে হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ ছিল।

এ ছাড়া চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭০৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে ৫৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, হাম উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন।

এদিকে ঢাকাসহ দেশের বেশকিছু জেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টিকা দেওয়ার পরেও অনেক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সম্প্রতি জানান, গত আট বছর টিকা দেওয়ার হার খুবই কম থাকায় হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার নতুন করে টিকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে হামের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করবে সরকার।

তিনি আরও বলেন, আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুরা এই টিকা পেলেও বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শিশু-কিশোররা এই টিকা নিতে পারবে।

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে- তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।