পরিত্যক্ত জলাশয়ে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে
হাওরবেষ্টিত লাখাইয়ে এক ফসলি জমিতে বিকল্প কৃষির সম্ভাবনা

হাওরাঞ্চল বেষ্টিত হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ভাসমান সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছে কৃষককূল। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে বোরো ধান কাটার পর বছরের অধিকাংশ সময় জমি পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে এসব এলাকায় একটির বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না। তবে এই একফসলি জমি, পরিত্যক্ত জলাশয় ও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পুকুরগুলোতে ভাসমান সবজি চাষের মাধ্যমে কৃষির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভাসমান সবজি চাষের ফলে একদিকে যেমন অব্যবহৃত জলাভূমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে সবজি উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছে বিভাগটি।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে উপজেলার করাব ইউনিয়নের করাব গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া তার বাড়ির পাশের দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত একটি পুকুরে ভাসমান সবজি চাষ শুরু করেছেন। পুকুরের কচুরিপানা স্তূপ করে ভাসমান বেড তৈরি করে তিনি সেখানে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজি আবাদ করেন। বর্তমানে বেডে সবজির বৃদ্ধি ও ফলন দেখে আশাবাদী তিনি।
মৌসুমি সবজি চাষি শাহজাহান মিয়া বলেন, “উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে আমি প্রথমবারের মতো ভাসমান সবজি চাষ করেছি। পানির ওপরও যে সবজি চাষ করা যায়, তা আগে জানতাম না। বেডে সবজির ভালো ফলন দেখে আমি সত্যিই অভিভূত।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুল ইসলাম বলেন, “হাওরবেষ্টিত লাখাই ভাসমান সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে ভাসমান সবজি চাষ সম্প্রসারণে আমরা নিয়মিত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।”


























